এশিয়া কাপ নারী ফুটবলে আনিকা রাইনা সিদ্দিকির পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা
এশিয়া কাপ নারী ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুইডেন থেকে আসা খেলোয়াড় আনিকা রাইনা সিদ্দিকির অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি সরাসরি ট্রায়াল ক্যাম্পে যোগ দিয়ে চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন, কিন্তু মাঠে তার পারফরম্যান্স দর্শক ও বিশেষজ্ঞদের разочаিত করেছে।
মাঠে দুর্বল উপস্থিতি ও ভুল সিদ্ধান্ত
আনিকা সিদ্দিকি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচে অংশ নেন। চীনের বিপক্ষে তিনি ৮৬ মিনিটে মাঠে নামেন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৪৬ মিনিটে, এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে রাখা হয়েছিলেন। কিন্তু তার খেলায় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আনিকা বারবার ভুল পাস দিয়ে বল প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের আক্রমণকে নষ্ট করেছে। কোচ পিটার বাটলারকে ৬৪ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হতে হয়। তিন ম্যাচেই তিনি নিজের প্রতিভা দেখাতে ব্যর্থ হন এবং দর্শকদের নজর কাড়তে পারেননি।
জাতীয় দলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
আনিকা সিদ্দিকির জাতীয় দলে প্রবেশের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সুইডেন থেকে এসে সরাসরি ট্রায়াল ক্যাম্পে হোটেলে উঠেন এবং পরে চূড়ান্ত দলে জায়গা পান। তবে তার পূর্বের খেলার অভিজ্ঞতা বা সুইডেনে কোথায় খেলেছেন তা স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশে নারী লিগ চলাকালে তিনি ঢাকায় এসে লিগের খেলাও দেখেননি বলে জানা গেছে।
কোচিং স্টাফ সূত্রে আশা করা হয়েছিল যে আনিকা ভালো করবেন, কিন্তু তা প্রমাণিত হয়নি। এদিকে, সানজিদা খাতুন, মাসুরা পারভিন, কৃষ্ণার রানীর মতো দক্ষ ফুটবলারদের ট্রায়ালে ঢোকার সুযোগই দেওয়া হয়নি, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্রীড়াঙ্গনে রেওয়াজ ও ভবিষ্যৎ
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি রেওয়াজ চালু রয়েছে, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বা আত্মীয়স্বজনরা জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন। আনিকা সিদ্দিকিও এই ধারার অংশ কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে কোচ পিটার বাটলার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে বাফুফের একজন সহ-সভাপতির নাম উল্লেখ করেছিলেন।
আনিকা এখন সুইডেন ফিরে যাবেন এবং পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে যাবেন। তার ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে কিনা তা সময়ই বলবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
