হকি সংগঠক জাকি আহমেদ রিপনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক
গতকাল মাঝ রাতে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলেন জাকি আহমেদ রিপন। প্রথমে তিনি নিজেই কিছু দূর হেঁটে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ভাইয়ের সহায়তায় গাড়ীতে করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান। দুর্ভাগ্যবশত, চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। ষাটোর্ধ্ব এই হকি সংগঠক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান, স্ত্রী ও দুই মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে।
জানাজা ও শেষকৃত্য
বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির মধুবাগ মসজিদে এবং এরপর প্রিয় আবাহনী ক্লাবে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর রায়েরবাজার কবরস্থানে তাকে চিরশায়িত করা হয়, যেখানে হকি সম্প্রদায়ের সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।
সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া
হকির জন্য নিবেদিত প্রাণ এই সংগঠককে হারিয়ে একসময়ের সতীর্থ সাবেক তারকা খেলোয়াড় মাহবুব হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিপন ভাই হঠাৎ চলে যাবেন ভাবতে পারিনি। তার ও আমার বাসা কাছাকাছি। আজ সকালে বাসার নিরাপত্তা কর্মীর কাছ থেকে এমন দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছে। রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলেও ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। আমরা আবাহনী অন্তঃপ্রাণ একজন ভালো সংগঠক হারালাম।’
হকি জগতে অবদান
প্রায় চার দশক ধরে আবাহনী ক্লাব ও হকির সঙ্গে রিপনের গভীর সম্পৃক্ততা ছিল। সোনালি ব্যাংকে এক বছর খেলার পর আবাহনীতে যোগ দেন এবং আর কখনো দল ছাড়েননি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি নিবেদিত সংগঠকে পরিণত হন, আবাহনী হকি দলের ম্যানেজার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি আবাহনী হকি কমিটির সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও, হকি ফেডারেশনের কমিটিতে বহুবার যুগ্ম সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যা হকি খেলার উন্নয়নে তার অগ্রণী ভূমিকা তুলে ধরে।
শোকের ছায়া
রিপনের আকস্মিক মৃত্যুতে আবাহনী ক্লাব ও হকি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাবেক খেলোয়াড়, সংগঠক এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও হকি ফেডারেশনও অন্তর্ভুক্ত, যারা এই ক্ষতি মেনে নিতে পারছেন না।



