বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ফুটবল বিশ্বকাপ আশীর্বাদ: ট্রল থেকে মুক্তি মিলেছে
ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ট্রল থেকে মুক্তি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যেন ফেসবুক অ্যালগরিদমের কাছেও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হারের খবর আর আগের মতো আলোচিত হচ্ছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের পর প্রথম ওয়ানডেতেও লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু এবার দর্শকরা ব্যস্ত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেনের ম্যাচ নিয়ে। ফলে বাংলাদেশের হারের খবর নিচে মাত্র কয়েকটা রিঅ্যাক্ট পড়ছে।

বিশ্বকাপের কারণে ক্রিকেটারদের শান্তি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কৌশল হওয়া উচিত—যখনই দলের অবস্থা খারাপ থাকবে, তখনই বিশ্বকাপ, ইউরো, কোপা আমেরিকা কিংবা অলিম্পিকের সময় সিরিজের আয়োজন করা। আগে বাংলাদেশ হারলেই ফেসবুকে পাঁচ লাখ পোস্ট, ইউটিউবে দশ হাজার বিশ্লেষণ হতো। এখন বিশ্বকাপের কারণে মানুষ বলছে, 'আচ্ছা, পরে দেখি। আগে ফুটবলটা দেখি।'

ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান মিরাজের অবস্থাও করুণ। দল হারছে, নিজের ব্যাটও হাসছে না। অন্য সময় হলে তাঁর প্রতিটি শট নিয়ে বিশ্লেষণ চলত। এখন কেউ সময়ই পাচ্ছে না। একজন ক্রিকেটপ্রেমীকে জিজ্ঞেস করলাম—বাংলাদেশ কত রানে হারল? তিনি বললেন—জানি না ভাই। কিন্তু বলুন তো, আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ কী?

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাহিদ রানার ৬ উইকেটও আলোচিত হচ্ছে না

অবশ্য একটা বিষয় স্বীকার করতেই হবে। বাংলাদেশের পুরো বোলিং আক্রমণের মধ্যে নাহিদ রানা একাই যেন ভুল জায়গায় এসে পড়েছেন। প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এমন বোলিং করলে সাধারণত জাতি অন্তত এক সপ্তাহ ধরে স্ট্যাটাস দেয়। কিন্তু এবার লোকজন ভাবছে, ভালোই তো! আচ্ছা, আজ বেলজিয়ামের ম্যাচ কখন? নাহিদ রানা হয়তো বাড়ি গিয়ে পরিবারকে বলছেন—আমি ৬ উইকেট পেয়েছি। পরিবারের উত্তর—ভালো কথা। কিন্তু আজকের বিশ্বকাপ ম্যাচটা কয়টায় শুরু?

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এমনকি প্রতিবেশীরাও আর মিষ্টি চাইতে আসে না। কারণ, তাদের হাতে তখন বিশ্বকাপের ফিক্সচার। ফেসবুকের অবস্থাও দেখার মতো। আগে বাংলাদেশের হার মানেই মিমের বন্যা। এখন সব মিমের ক্যাপশন—'মেসি আবারও টাকা দিয়ে পেনাল্টি কিনল!' 'ফিফা একা আর কত করবে!' 'ফিফা আবারও আর্জেন্টিনাকে জেতাতে সব রকম চেষ্টা করছে!' বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যেন ফেসবুক অ্যালগরিদমের কাছেও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে।

ক্রিকেটাররাও বিশ্বকাপ দেখছেন

আমি তো সন্দেহ করছি, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে বসে নিজেদের খেলার হাইলাইটস না দেখে বিশ্বকাপের ম্যাচই দেখছেন। কোচ হয়তো বলছেন—আজকের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করি। একজন ক্রিকেটার হাত তুলে বলছে—স্যার, ৫ মিনিট পরে করি? এখন টাইব্রেকার শুরু হবে। এমনকি সংবাদমাধ্যমেরও কষ্ট হচ্ছে। শিরোনাম দিতে চায়, 'বাংলাদেশের হতাশাজনক হার'। কিন্তু সেই খবর প্রকাশ করার আগেই সম্পাদক বলছেন—না না, আগে বিশ্বকাপের আপডেট দাও। বাংলাদেশের খবর পরে দিলেও চলবে।

বিশ্বকাপই সেরা ডিফেন্স

তবে একটা দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বিশ্বকাপ না থাকলে এই হার নিয়ে জাতীয় শোক পালন হতো। এখন হারলেও মানুষ বলছে, 'আচ্ছা, পরে দেখি। আগে ফুটবলটা দেখি।' শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কৌশল হওয়া উচিত—যখনই দলের অবস্থা খারাপ থাকবে, তখনই বিশ্বকাপ, ইউরো, কোপা আমেরিকা কিংবা অলিম্পিকের সময় সিরিজের আয়োজন করা। তাহলে অন্তত ট্রল বা সমালোচনা থেকে রেহাই মিলবে। কারণ, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে কার্যকর 'ডিফেন্স' হলো ভালো ব্যাটিং বা বোলিং নয়—ফুটবল বিশ্বকাপ!