ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: সি গ্রুপে ব্রাজিলের পরীক্ষা, মরক্কোর চমক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: সি গ্রুপে ব্রাজিলের পরীক্ষা

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের দরজা প্রায় খুলে গেছে। তার আগে বিশ্বকাপের সি গ্রুপ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আর তাদের গ্রুপ নিয়ে আলোচনা না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। এই গ্রুপে ব্রাজিল ছাড়াও আছে মরক্কো, স্কটল্যান্ড আর হাইতি। একদিকে ব্রাজিলের মতো বিশ্বজয়ী দল, অন্যদিকে মরক্কোর মতো জায়ান্ট কিলার। স্কটল্যান্ড ফিরে এসেছে অনেক বছর পরে। আর হাইতি খেলছে তাদের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপে।

নেইমার ফিরলেন, কিন্তু ব্রাজিলের সব কি ঠিক আছে?

ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপে আসছে কার্লো আনচেলত্তির কোচিংয়ে। ক্লাব কোচিংয়ে আনচেলত্তি সর্বকালের অন্যতম সেরাদের একজন। শেষ চার বছরে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অর্জন আছে তার ঝুলিতে। তবে জাতীয় দল বিবেচনায় অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম তার। সেই আনচেলত্তিকে এবার দেওয়া হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানোর ভার। তিনি দলকে একটু নতুনভাবে গড়েছেন। এবারের দলটা আগের বিশ্বকাপের ব্রাজিলের মতো নয়। সেটা ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই দিক থেকেই।

সবচেয়ে বড় খবর হলো নেইমার ফিরেছেন। দুই বছরের বেশি সময় পর তিনি আবার ব্রাজিলের জার্সি পরবেন। নেইমারের বয়স এখন ৩৪। সান্তোসের হয়ে শেষ ১৩টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে তিনি মাঠে ছিলেন। কোচ আনচেলত্তি বলেছেন, নেইমার শারীরিকভাবে ভালো আছেন এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু এই নেইমারের জায়গায় বাদ পড়েছেন জোয়াও পেদ্রো। এটা অনেককে অবাক করেছে। জোয়াও পেদ্রো চেলসির হয়ে এই মৌসুমে ৪৬ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন। তারপরেও তাকে দলে নেওয়া হয়নি। মজার বিষয় হলো, নেইমারের দলে ফেরার কয়েক সপ্তাহ আগে জোয়াও পেদ্রো নিজেই বলেছিলেন নেইমার ব্রাজিলের জন্য মেসির মতো। তিনি বলেছিলেন নেইমারের বিশ্বকাপে থাকা উচিত। শেষ পর্যন্ত নেইমার দলে এলেন আর জোয়াও পেদ্রো বাদ পড়লেন। বিচিত্র পরিস্থিতিই বৈকি!

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে রদ্রিগো আর এস্তেভাও আগেই বাদ পড়েছেন চোটের কারণে। থিয়াগো সিলভাও বাদ পড়েছেন চূড়ান্ত দল থেকে।

ব্রাজিলের আক্রমণ কেমন হবে?

ব্রাজিলের আক্রমণের মূল শক্তি হলো ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি বাম দিক থেকে খেলবেন। ডান দিকে থাকবেন রাফিনিয়া। তিনি ইউরোপে গত দুই মৌসুম ধরে দারুণ খেলছেন, এই সময়ে ভিনিকেও ছাড়িয়ে গেছেন পারফর্ম্যান্সের দিক থেকে। এই দুজন মিলে ব্রাজিলের আক্রমণকে প্রাণ দেবেন। মাঝখানের স্ট্রাইকারের ভূমিকায় কে খেলবেন সেটা এখনো পুরোপুরি ঠিক নেই। মাতেউস কুনিয়া, এনড্রিক আর নেইমার তিনজনই এই জায়গায় খেলতে পারেন। কিন্তু তিনজনের খেলার ধরন আবার বেশ আলাদা। কোচ আনচেলত্তিকে এই কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হবে বটে! গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলিও দলে আছেন। তিনি পিচের ওপরের দিক থেকে প্রেস করতে পারেন এবং গোলও করতে পারেন সমানতালে।

ব্রাজিলের রক্ষণ

এবারের ব্রাজিলের রক্ষণ আগের চেয়ে ভালো। মারকিনিয়োস আর গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস মাঝখানে থাকবেন। ওয়েসলি আর আলেক্স সান্দ্রো দুই পাশে। কাইও হেনরিক চোটের কারণে দলে নেই, তাই বাম পাশে আলেক্স সান্দ্রোকেই খেলতে হবে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। আর তার জন্য ফুলব্যাকদের সাহায্য চাই তাদের। সেই ফুলব্যাকরা যখন সামনে উঠে আসেন, তখন পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। প্রতিপক্ষ যদি সেই স্পেস কাজে লাগায় তাহলে বিপদেই পড়তে পারে ব্রাজিল।

চ্যালেঞ্জ

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নেইমারকে নিয়ে। নেইমার দুই বছরের বেশি সময় পরে ফিরেছেন। বয়স ৩৪। শরীর আগের মতো নেই। কিন্তু ব্রাজিলের সমর্থকরা তার দিকে তাকিয়ে থাকবেন। মিডিয়াও তাকে নিয়ে লিখবে। দলের মনোযোগ একটা নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আরেকটা সমস্যা হলো ফরোয়ার্ড হিসেবে কে খেলবেন সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। কুনিয়া, এনড্রিক আর নেইমার তিনজনই স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে পারেন। তিনজনের আবার তিনরকম খেলার ধরন। বিষয়টা কোচ আনচেলত্তির জন্য অস্বস্তির হতে পারে। রক্ষণের পেছনের ফাঁকা জায়গা আরও একটা চ্যালেঞ্জ সেলেসাওদের। ভিনিসিয়ুস আর রাফিনিয়া সামনে থাকলে দুই পাশের ডিফেন্ডাররাও সামনে ওঠেন। তখন রক্ষণে তো বটেই, মাঝমাঠেও স্পেস তৈরি হয়। মরক্কোর মতো দ্রুত প্রতি আক্রমণে ওঠা দল সেই জায়গা কাজে লাগাতে পারে।

কীভাবে চ্যালেঞ্জ উতরে যাবে ব্রাজিল?

নেইমারকে পুরো ৯০ মিনিট না খেলিয়ে বরং বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হবে ব্রাজিলকে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট মাঠে থেকে নেইমার যা করতে পারেন সেটা ৯০ মিনিট খেলে ক্লান্ত নেইমারের চেয়ে বেশি কার্যকর হবে। কোচ আনচেলত্তি সেটা বুঝেছেন বলেই মনে হচ্ছে। ফরোয়ার্ড হিসেবে কুনিয়াকে প্রথম পছন্দ রাখতে পারে ব্রাজিল। তার গতি বেশ ভালো, গোল করার অভ্যাস আছে, ভালোভাবে দলের কৌশলেও মানিয়ে নিতে পারেন। রক্ষণ আর মাঝমাঠে স্পেসের সমস্যা মেটাতে কাসেমিরো আর গিমারেশকে মাঝমাঠে সতর্ক থাকতে হবে। তারা যখন সামনে যাবেন না তখন ব্যাকলাইন বাড়তি সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব মূলত তাদেরই।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ

গোলকিপার: আলিসন। ডিফেন্ডার: ওয়েসলি, মারকিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল, আলেক্স সান্দ্রো। মিডফিল্ডার: রাফিনিয়া, গিমারেশ, কাসেমিরো, মার্টিনেলি। ফরোয়ার্ড: কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস। সেট পিস: কর্নার- রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারেশ, ভিনিসিয়ুস, কুনিয়া, নেইমার, পাকেতা। ফ্রি কিক- রাফিনিয়া ও নেইমার। পেনাল্টি- রাফিনিয়া, ইগোর থিয়াগো, পাকেতা ও নেইমার।

মরক্কো কি এবারও চমক দেবে?

মরক্কো এবারের বিশ্বকাপে আসছে মোহামেদ ওয়াহবির কোচিংয়ে। নতুন কোচ, কিন্তু দলের পরিচিতি পুরনোই আছে। মরক্কো যেভাবে খেলে সে কৌশলটা পরিষ্কার। বল পায়ে না থাকলে জমাট রক্ষণ, আর বল দখলে নিতে পারলেই আগুনে গতির প্রতি আক্রমণ… এই তাদের খেলার মূলমন্ত্র। এই দলের সবচেয়ে বড় নাম হলো আশরাফ হাকিমি। তিনি ডান পাশ থেকে প্রচণ্ড গতিতে সামনে যান এবং বিপদ তৈরি করেন। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠে সুযোগ তৈরি করেন। এই দুজন মিলে মরক্কোর আক্রমণকে ভয়ঙ্কর করে তোলেন। মরক্কো ৪-১-৪-১ অথবা ৪-৩-৩ সাজানো নিয়ে মাঠে নামতে পারে।

মরক্কোর আক্রমণ

মরক্কো মূলত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ দল। প্রতিপক্ষ বল হারালে মরক্কো সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আক্রমণে ওঠে। তারা ওয়াইড স্পেসে রান নেয়, হাকিমি ও নুসাইর মাজরাউই দুই পাশ থেকে প্রতিপক্ষকে প্রেস করেন। দিয়াজ মাঝখানে ফাঁকা জায়গা খোঁজেন। যেকোনো দলকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা মরক্কোর আছে। প্রতিপক্ষ একটু শৃঙ্খলা হালেই তারা সুযোগ কাজে লাগায়।

মরক্কোর রক্ষণ

মরক্কোর রক্ষণ খুব সংগঠিত। মাঝমাঠ থেকে রক্ষণ, সব একসঙ্গে মুভ করে। মিডফিল্ডে তারা খুব একটা স্পেস দেয় না প্রতিপক্ষকে। বল পায়ে রেখে খেলা দলের বিপক্ষে তারা বেশি কার্যকর। কারণ সেই দল যখন রক্ষণে ফাঁকা জায়গা রেখে যায় মরক্কো সেই সুযোগ নেয়।

চ্যালেঞ্জ

মরক্কোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। আগের কোচ ওয়ালিদ রেগরাগি ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরিচিত কৌশল আর খেলোয়াড়দের সাথে বোঝাপড়া ছিল গভীর। নতুন কোচের সাথে সেই বোঝাপড়া তৈরি হতে সময় লাগে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষ যদি লো ব্লক বা বাসপার্ক করে খেলে, তখন মরক্কো হকচকিয়ে যায়। মরক্কো প্রতি আক্রমণে দারুণ। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ষণে থেকে মরক্কোকে আক্রমণ করতে বাধ্য করে তখন সমস্যা হতে পারে বেশ। স্কটল্যান্ড বা হাইতি এই কৌশল নিতে পারে। তৃতীয় সমস্যা হলো স্ট্রাইকারের ভূমিকা। মরক্কোর সামনে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব দীর্ঘদিন ধরে আছে। এল কাবি স্কোরার হিসেবে মন্দ নন তবে তার ভেতর ধারাবাহিকতার অভাব বেশ। যদি গোলের সুযোগ তৈরি হয়ে গোল না হয় তাহলে ফলাফল ভুগতে হবে।

কীভাবে চ্যালেঞ্জ উতরে যাবে মরক্কো?

নতুন কোচের সাথে মানিয়ে নিতে মরক্কোকে প্রথম দুই ম্যাচে সহজ কৌশলে খেলতে হবে। দলের পরিচিত সাজানো মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এড়িয়ে যেতে হবে। প্রতিপক্ষ বাসপার্ক করে রাখলে হাকিমি আর মাজরাউইকে ব্যবহার করতে হবে। তারা সরাসরি বক্সে বল ক্রস করবেন তখন। দিয়াজকে মাঝখানে আরো সক্রিয় থাকতে হবে যেন আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেন। স্ট্রাইকারের সমস্যার সমাধান রাতারাতি হবে না। ফলে এর সমাধান হলো দলগতভাবে গোল করার মানসিকতা তৈরি করা। একা একজনের উপর নির্ভর না করে মিডফিল্ডারদেরও বক্সে ঢুকতে হবে।

মরক্কোর সম্ভাব্য একাদশ

গোলকিপার: বনো। ডিফেন্ডার: হাকিমি, দিওপ, আগুয়ের্দ, মাজরাউই। মিডফিল্ডার: এল আইনাউই, সাইবারি, এল খান্নুস। ফরোয়ার্ড: দিয়াজ, এল কাবি, আবদে। সেট পিস: কর্নার- হাকিমি, এজ আবদে, বিযাজ। ফ্রি কিক- হাকিমি ও দিয়াজ। পেনাল্টি- দিয়াজ।

ছোট দল হাইতির বড় স্বপ্ন

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে হাইতি। এটাই তাদের জন্য বিশাল পাওয়া। কোচ সেবাস্তিয়ান মিনিয়ে দলকে গুছিয়ে তুলেছেন। হাইতি কখনো বলের দখল ধরে রেখে খেলার দল নয়। মরক্কোর মতো তাদেরও মূলমন্ত্র আগে রক্ষণ, পরে আক্রমণ।

হাইতির আক্রমণ

হাইতির আক্রমণের মূল শক্তি হলো গতি। উইলসন ইসিদোর, জিন-রিসনার বেলগার্দে আর ডাকেন্স নাজোন মিলে ফরোয়ার্ড লাইনে গতি আর ডিরেক্ট আক্রমণ তৈরি করেন। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা আক্রমণে ওঠে। মাঠের দুই পাশ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছড়িয়ে দিয়ে মাঝের দিকে ফাঁকা জায়গা তৈরির চেষ্টা করে। তাদের আক্রমণ লম্বা সময় নিয়ে হয় না। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের ঝলকেই তারা গোল করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

হাইতির রক্ষণ

হাইতির রক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো মাঝখানের জায়গা আটকানো। প্রতিপক্ষকে পাশ দিয়ে ক্রস করতে বাধ্য করা। লম্বা ডিফেন্ডারদের দিয়ে তখন এরিয়াল ডুয়েল সামলানো সহজ হয়ে যায়। ব্রাজিল বা মরক্কোর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় চাপ ধরে রাখা সম্ভব না। তাই তারা মাঝমাঠে সংগঠিত হয়ে চাপ সামলাবে।

চ্যালেঞ্জ

হাইতির চ্যালেঞ্জের তালিকা সবচেয়ে লম্বা। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো মনোবল। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগেই অনেক খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়ে যেতে পারে। সেই চাপ সামলানো কঠিন। বল ধরে রাখতে না পারাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বল হারানোর পর দ্রুত আক্রমণে যাওয়াই হাইতির কৌশল। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতিপক্ষ সেই সুযোগ দেবে না। ব্রাজিল বা মরক্কোর মতো দল বল হারালে প্রেস করে বল দখলে নেয় আবার। তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শারীরিক ক্লান্তি। তিনটি ম্যাচে টানা হাই ইন্টেন্সিটিতে খেলা হাইতির মতো দলের জন্যও কঠিন বিষয়। বিশেষত গরমের মধ্যে আমেরিকায় খেলা আরো কঠিন হবে।

কীভাবে চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারে হাইতি?

হাইতিকে প্রতিটি ম্যাচে একেবারে নতুনভাবে শুরু করতে হবে। ব্রাজিলের কথা ভুলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো মনোযোগ দিতে হবে। সেই ম্যাচে যদি একটা ভালো ফল আসে তাহলে পরের ম্যাচে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে। প্রতিপক্ষের মাঝখান দিয়ে সহজে ঢুকতে না দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ইসিদোর আর বেলগার্দের মতো দ্রুতগতির খেলোয়াড়দের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। বল পাওয়ার সাথে সাথে সরাসরি সামনে পাঠানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ঠিক হওয়ার আগেই আক্রমণ করাটাই হাইতির সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।

হাইতির সম্ভাব্য একাদশ

গোলকিপার: প্লাসিদে। ডিফেন্ডার: আর্কাস, আদে, দেলক্রোয়া, লাক্রোয়া। মিডফিল্ডার: বেলগার্দে, পিয়েরে, দিডসন, কাসিমির, প্রোভিদেন্স। ফরোয়ার্ড: ইসিদোর। সেট পিস: কর্নার- বেলগার্দে, দিডসন, কাসিমির। ফ্রি কিক- বেলগার্দে। পেনাল্টি- নাজোন ও ইসিদোর।

পরিচিত কৌশলে স্কটল্যান্ডের নতুন চ্যালেঞ্জ

স্কটল্যান্ড এই বিশ্বকাপে ফিরেছে ২৮ বছর পর। কোচ স্টিভ ক্লার্কের হাতে একটা পরিচিত দল। এন্ড্রু রবার্টসন, স্কট ম্যাকটমিনে, জন ম্যাকগিন, বিলি গিলমোর এই নামগুলো স্কটিশ ফুটবলের মূল ভিত্তি। স্কটল্যান্ড ৪-২-৩-১ ছকে খেলতে পছন্দ করে। তবে প্রতিপক্ষ বিচারে ৩-৪-২-১ ব্যবহার করে খেলতে পারে তারা।

স্কটল্যান্ডের আক্রমণ

স্কটল্যান্ডের আক্রমণ বৈচিত্র্যময় নয়। তারা সুনির্দিষ্ট এলাকায় বল নিয়ে যায়, সেখানে সেট পিস আদায় করার চেষ্টা করে। এছাড়া এন্ড্রু রবার্টসন বাম দিক থেকে কার্যকরি বল যোগান দেন। মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনে আর ম্যাকগিন বক্সের ভেতরে লেট রান নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। স্কটল্যান্ড সবচেয়ে ভালো খেলে যখন ম্যাচটা বেশি ফিজিক্যাল আর অগোছালো হয়ে যায়। সেই পরিবেশে তারা প্রতিপক্ষকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।

স্কটল্যান্ডের রক্ষণ

স্কটল্যান্ড রক্ষণ বেশ গোছানো। মাঝমাঠ আর রক্ষণ একসঙ্গে কাজ করে। প্রতিপক্ষকে সরাসরি গোলের সুযোগ সচরাচর দেয় না স্কটিশরা। তবে যদি প্রতিপক্ষ যদি বল পায়ে দক্ষ হয়, আর প্রেসের প্রথম স্তরটা ভেদ করে ফেলতে পারে, তাহলে স্কটিশদের রক্ষণ ভাঙা খুব কঠিনও নয়। এছাড়া ব্রাজিল আর মরক্কোর মতো দলের বিপক্ষে দুই পাশ রক্ষা করাটা স্কটল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

চ্যালেঞ্জ

স্কটল্যান্ডের সামনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো ব্রাজিল আর মরক্কোর মতো দলের বিপক্ষে টিকে থাকা। ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট একই মানের ফুটবল খেলা স্কটল্যান্ডের পক্ষে সম্ভব না। সেটা মেনে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। স্কটল্যান্ড যখন পিছিয়ে পড়ে তখন তারা একের পর এক ক্রস দিতে থাকে। কিন্তু প্রতিপক্ষের লম্বা আর শক্তিশালী সেন্টারব্যাক থাকলে সেই ক্রসগুলো কাজে আসে না। সেটা হাইতির বিপক্ষেও বেশ চাপে ফেলতে পারে স্কটিশদের। তৃতীয় সমস্যা হলো গোলমুখে ফিনিশ করার দক্ষতা। স্কটল্যান্ড অনেক সুযোগ তৈরি করে কিন্তু গোলে পরিণত করতে পারে না। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই সমস্যা বড় না হয়েই যায় না।

কীভাবে চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারে স্কটল্যান্ড?

ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে হাইতির বিপক্ষে পুরো তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করাটাই প্রথম কাজ। গ্রুপে টিকে থাকতে হলে দুর্বল দলের বিরুদ্ধে জেতা আবশ্যক। মরক্কোর বিপক্ষে তারা যদি ফিজিক্যাল খেলার পরিবেশ তৈরি করতে পারে তাহলে ফল আসতে পারে। ম্যাকটমিনে আর ম্যাকগিনের মতো খেলোয়াড় এই পরিস্থিতিতে ভালো খেলেন। সেট পিসকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। ম্যাকগিনের মতো একজন দক্ষ সেট পিস টেকার আছেন দলে। কর্নার আর ফ্রি কিক থেকে গোল করাটাই স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বাস্তবিক উপায়।

স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ

গোলকিপার: গান। ডিফেন্ডার: হিকি, সাউটার, ম্যাকেনা, রবার্টসন। মিডফিল্ডার: ক্রিস্টি, গিলমোর, গ্যানন, দোয়াক, ম্যাকটমিনে, ম্যাকগিন। ফরোয়ার্ড: অ্যাডামস। সেট পিস: কর্নার- ম্যাকগিন ও ফার্গুসন। ফ্রি কিক- ম্যাকগিন ও ফার্গুসন। পেনাল্টি- ম্যাকগিন।

গ্রুপ সি প্রেডিকশন

ব্রাজিল গ্রুপ শীর্ষে থাকবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তাদের আক্রমণের গভীরতা আর মান অন্য দলের চেয়ে অনেক বেশি। নেইমারের ফেরা দলে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। দ্বিতীয় স্থানটা কে পাবে সেটা নিয়ে আসল প্রতিযোগিতা। মরক্কো সেই জায়গার প্রধান দাবিদার। তারা কৌশলগতভাবে বেশ এগিয়ে বাকি দুই দলের চেয়ে। আফকন জয়ের আত্মবিশ্বাস এখন তাদের সাথে আছে। তবে স্কটল্যান্ড ছেড়ে কথা বলবে না। তারা শারীরিক খেলায় বিপজ্জনক। সেট পিসে তারা গোল করতে পারে। যদি মরক্কোর বিরুদ্ধে ভালো খেলতে পারে তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন দেখতেই পারে। হাইতির জন্য একটা অঘটন ঘটানোই হবে সাফল্য। ৫২ বছর পরে বিশ্বকাপে ফেরা নিজেই একটা বিজয়। কিন্তু তাদের গতি আর সংগঠিত রক্ষণ যদি কাজ করে তাহলে হয়তো একটা পয়েন্ট পেতেও পারে। এই গ্রুপে মাঠের দুই পাশ নিয়ন্ত্রণ, সেট পিস এবং পাল্টা আক্রমণ ঠেকানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। আর সেসব খণ্ড খণ্ড লড়াইয়ের ফলাফলই বদলে দিতে পারে পুরো গ্রুপের গতিপথ।