স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য, শুরু কেপ ভার্দের বিপক্ষে
স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য শুরু কেপ ভার্দে ম্যাচে

স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। এএফপি। স্পেনের সোনালি প্রজন্ম বলা হয় ইউরো–বিশ্বকাপ–ইউরো জেতা দলটিকে। ২০০৮ সালে ইউরো জয়ের পর ২০১০ সালে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ। এরপর ২০১২ সালে আবারও জয় করে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই দলটি ছিল তারকায় ঠাসা। সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস থেকে শুরু করে সময়ের বিশ্বসেরা কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও রামোস, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও ফার্নান্দো তোরেসের মতো তারকারা।

সেই সোনালি প্রজন্মের সূর্যও একটা সময় অস্ত যায়। ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে যার ইতি ঘটে। এর পর থেকে স্পেন হারিয়ে খুঁজছিল নিজেদের। কোনো খেলোয়াড়ই বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের জানান দিতে পারেনি। ফলস্বরূপ ২০১৬ ও ২০২০ ইউরো এবং ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে আবারও ব্যর্থ হতে হয়। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সকে ব্যর্থ না বলে বরং নতুন শুরুর বার্তাও বলা যেতে পারে।

নতুন যুগের সূচনা

২০১০ সালে প্রথমবারের বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে স্পেন। কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি স্কোয়াড ঘোষণা করেন তৎকালীন কোচ লুইস এনরিকে। যার অধিকাংশই ছিল তরুণ। গড় বয়স ২৪–২৫ বছর। ছাঁটাই করেন অভিজ্ঞ সের্হিও রামোসের মতো বিশ্বসেরা তারকাকেও। তখন এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। তবে পাত্তা দেননি স্পেন কোচ। শেষ ষোলোয় থেকে বিদায় নেওয়ায় সেই সমালোচনা আরও বাড়ে। বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছাড়েন লুইস এনরিকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লুইস দে লা ফুয়েন্তে কোচ হিসেবে যুক্ত হয়ে এই তরুণ দলটিকেই এগিয়ে নেন। পরের বছর ২০২৩ সালে স্পেনকে এনে দেন উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা এবং পরের বছরই ইউরো। সেই দলটি এখনো তরুণ, তবে অভিজ্ঞতায় ভরপুর। এবার বিশ্বকাপে কাগজে–কলমে সম্ভাব্য ফেবারিটের তালিকায় শীর্ষ দুই দলের একটি স্পেন। তাদের অনেক খেলোয়াড় এরই মধ্যে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের জানান দিয়েছে। ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে সেই জানানকে দিয়েছে পূর্ণতা। এবার তাদের লক্ষ্য, দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতা। সেই সামর্থ্য পুরোপুরিই আছে।

লামিনে ইয়ামাল: নতুন তারকা

বর্তমান স্পেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। এরই মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে ২৫ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ৬টি, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১২টি এবং জয় করেছেন ইউরো। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ২০২৪ ইউরোর সেরা উদীয়মান তারকা নির্বাচিত হয়। সেরা খেলোয়াড়ের আলোচনাতেও ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাব্য দাবিদারও ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তালিকায় দ্বিতীয় হন।

স্পেন দলে লামিনে ইয়ামালের প্রভাব কতটা—এ বিষয়ে সম্প্রতি ফক্স স্পোর্টসকে বলেছেন সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তিনি বলেছেন, ‘লামিনে ইয়ামাল খুবই বিশেষ খেলোয়াড়। সে এমন একজন, যার খেলা দেখার জন্য আপনি দামি টিকিট কেনেন, যার জন্য স্টেডিয়ামে আসেন।’

আক্রমণে নিকো ও মিডফিল্ডে রদ্রি

আক্রমণভাগে আরেকজনের কথা বলতেই হবে—নিকো উইলিয়ামস। ডান প্রান্তে লামিনে ও বাঁ প্রান্তে নিকোর রসায়ন ছিল স্পেনের ইউরো জয়ের অন্যতম সেরা ফর্মুলা। এবারও দুজনের ওপর সেই গুরুদায়িত্ব। মিডফিল্ডে রয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা রদ্রি, পেদ্রি, গাভি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর মতো তারকারা। গোলপোস্ট সামলাবেন উনাই সিমন ও দাভিদ রায়াদের মতো সময়ের সেরা গোলরক্ষকেরা। রক্ষণেও রয়েছে যথেষ্ট নির্ভরতা।

আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা। র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৭তম স্থানে থাকা আফ্রিকান দেশটির সঙ্গে তারা যে সহজেই জিতবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে বিশ্বকে একটা বার্তা দিতেও পারবে তারা।