বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে। এর মাধ্যমে সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিশোধ নিল তারা।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১১০ রান। কিন্তু শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার তানজিদ হাসান রানআউট হয়ে ফিরে যান। সাইফ হাসানের শট বোলার স্পেন্সার জনসনের হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগলে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা তানজিদ আউট হন। একই ওভারের পঞ্চম বলে সাইফ হাসান ৯ বলে ১ রান করে অধিনায়ক মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দেন। তৃতীয় নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে নাথান এলিসের বলে ক্যাচ দেন। ৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১১ রানে ৩ উইকেট।
তাওহিদ হৃদয়ের একক সংগ্রাম
এরপরই দলকে টেনে তোলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তিনি ৫১ বলে ৬১ রান করেন, যাতে ছিল ৩টি চার ও সমান সংখ্যক ছক্কা। চতুর্থ উইকেটে নুরুল হাসানের সঙ্গে ১৪ বলে ২৩ রানের জুটি এবং ষষ্ঠ উইকেটে রিশাদ হোসেনের সঙ্গে ২০ বলে ২৬ রানের জুটি গড়েন। হৃদয় ছাড়া আর কেবল রিশাদই দুই অঙ্কের রান করতে পারেন—১৪ বলে ১৬ রান। বাকিরা কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১০৪ রানে অলআউট হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত
এত অল্প রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬০ রান করেন। জস ইংলিসকে নাসুম আহমেদ, কুপার কনোলিকে রিশাদ হোসেন এবং মার্শকে শরীফুল ইসলাম আউট করেন। তবে টিম ডেভিড মাত্র ৩ বলে ২ ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৯ ওভার হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়া ৫২ রানে জয় পায়।
সিরিজের ফলাফল
এর আগে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হলো বাংলাদেশ। এই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাওহিদ হৃদয় ছাড়া আর কেউই দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়া বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।



