বিসিবির 'ক্যাপ্টেনস কার্ড' পেলেন সাবেক অধিনায়করা, স্বাস্থ্য বীমা ও সম্মানের নিশ্চয়তা
একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ককে দেখা বিরল একটি দৃশ্য। আজ এমনই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক বিশেষ আয়োজনে। সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সাবেক অধিনায়কদের হাতে 'ক্যাপ্টেনস কার্ড' তুলে দিয়েছেন। এই কার্ডটি আজীবন মেয়াদের, যা দিয়ে তারা এখন থেকে বিসিবির যেকোনো ইভেন্টে প্রবেশ করতে পারবেন।
কার্ডের মাহাত্ম্য ও উদ্দেশ্য
তামিম ইকবাল কার্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, 'আমি নিশ্চিত এখানে যাঁরা যাঁরা আছেন অধিনায়ক, সবার মধ্যেই একটা ইনসিকিউরিটি কাজ করত যে যদি আমি মাঠে যাই, যদি আমাকে না চেনে, যদি আমাকে থামায়, ইজ্জত–সম্মান থাকবে কি না। এটা আমারও হয়েছে কোনো না কোনো সময়।' এই দ্বিধা দূর করতেই এবার অধিনায়কদের জন্য ক্যাপ্টেনস কার্ড চালু করা হয়েছে। তামিম নিজেও সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কার্ড গ্রহণ করেছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার কাছ থেকে।
চিকিৎসা সুবিধা ও স্বাস্থ্য বীমা
এই কার্ডের মাধ্যমে সাবেক অধিনায়করা এখন থেকে জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও বিসিবি সাহায্য করবে। এছাড়া, সাবেক অধিনায়কদের জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্সেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর বাইরে পুরুষ দলে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ জন। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন, তাদের মধ্যে শুধু রুমানা আহমেদই আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা আজকের অনুষ্ঠানে ছিলেন না। গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়েছে। আগের বোর্ডে থাকা তিন অধিনায়ক আমিনুল, ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদও আসেননি। তবে তামিম জানিয়েছেন, সবাইকেই অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
আমন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তামিম ইকবাল বলেন, 'আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, ওনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি, তারপর বুঝতে পারলাম আমিও ব্লকড্।' তবে যাঁরা এখনও কার্ড নেননি, তাঁরা চাইলে যেকোনো সময় এসেই তা নিতে পারবেন। তিনি আরও যোগ করেন, 'যখনই আপনারা পারেন, যখনই আপনারা দেশে আসবেন, প্লিজ কার্ডটা গ্রহণ করবেন। এটা সবসময় আপনাদের জন্য বিসিবিতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক। আমি রাজনীতি বা বিসিবিতে সম্প্রতি যা হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং একে–অন্যকে সম্মান করি।'
এই উদ্যোগটি সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য একটি সম্মানজনক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সহায়তা প্রদান করবে।



