পিএসএলে নাহিদ রানার ঝলকানি, পেশোয়ারের রেকর্ড জয়
পাকিস্তান সুপার লিগে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা অসাধারণ বোলিং প্রদর্শন করেছেন। তিনি মাত্র ৪ ওভারে ৭ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেছেন। পিএসএল অভিষেক ম্যাচে কিছুটা ব্যয়বহুল হওয়ার পর, করাচি কিংসের বিপক্ষে এই ম্যাচে তিনি জ্বলে উঠেছেন।
পিএসএল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়
নাহিদ রানার এই ঝলকানিময় পারফরম্যান্সের ম্যাচে পেশোয়ার জালমি করাচি কিংসকে ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। রানের হিসাবে এটি পাকিস্তান সুপার লিগের ইতিহাসে কোনো দলের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। করাচিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পেশোয়ার দল ৩ উইকেটে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে।
বাবর-কুশলের দারুণ জুটি
পেশোয়ারের ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস ১০৯ রানের সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বাবর আজম ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তারা দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৯১ রান যোগ করেন, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ পেশোয়ার তাদের ইনিংস শুরু করেছিল মোহাম্মদ হারিসের শূন্য রানে আউট হওয়ার মাধ্যমে।
নাহিদ রানার বোলিং সাফল্য
নাহিদ রানা করাচি কিংসের ব্যাটিং লাইনআপে ধ্বস নামিয়ে দেন। তিনি সাদ বেগ, খুশদিল শাহ এবং অ্যাডাম জাম্পাকে আউট করেন। বিশেষ করে, তাঁর তৃতীয় ওভারে তিনি কোনো রান না দিয়ে খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জাম্পাকে ফেরান, যা ম্যাচে চাপ সৃষ্টি করে। তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান এবং ৩ উইকেট।
করাচি কিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়
জবাবে করাচি কিংসের ব্যাটিং সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। তারা মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলটি প্রথম উইকেট হারায় মাত্র ১ রানে, যখন ইফতিখার আহমেদের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম আউট হন। এরপর দলীয় ৪ রানে আউট হন ডেভিড ওয়ার্নার, যাকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম ফেরান। শরীফুল ইসলাম ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ১ উইকেট পান।
পয়েন্ট তালিকায় পেশোয়ারের অবস্থান
এই জয়ের মাধ্যমে পেশোয়ার জালমি তাদের ৪টি ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় জয় পেয়েছে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে দলটি পিএসএল পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নাহিদ রানার এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক লিগে আরও সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



