চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার বিপর্যয়, আতলেতিকোর জয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে
বার্সেলোনার বিপর্যয়, আতলেতিকোর জয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে

চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার বিপর্যয়, আতলেতিকোর জয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে

চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলথের গোলে জয় পেয়ে সেমিফাইনালের দিকে এক ধাপ এগিয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দল। বার্সেলোনার জন্য এই পরাজয় চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের বিদায়ের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে ফিরতি লেগে দুই গোলের ঘাটতি মেটানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দেয় লাল কার্ড

ম্যাচটি শুরু থেকেই বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির লাল কার্ড দেখার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। জুলিয়ানো সিমিওনের উপর ফাউলের জন্য কুবারসিকে লাল কার্ড দেখানো হয়, যা ভিএআর রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই লাল কার্ড বার্সেলোনার জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে, কারণ এরপরই ফ্রি-কিক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের গোলে আতলেতিকো ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

আতলেতিকোর কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব

দিয়েগো সিমিওনের কৌশলগত পরিকল্পনা ম্যাচে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আতলেতিকো তিন ডিফেন্ডার দিয়ে বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামালকে বোতলবন্দী করে রেখেছিল, যা বার্সার আক্রমণকে ব্যাহত করে। যদিও ইয়ামাল কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু আতলেতিকোর গোলরক্ষক মুসো দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা লেভানডফস্কি ও পেদ্রিকে তুলে নিয়ে গাভি ও ফেরমিন লোপেজকে নামালেও ১০ জন নিয়ে লড়াই চালানো তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরে

৭০ মিনিটে আতলেতিকো ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি পায়। গ্রিজমান ও রুগেরির দারুণ সমন্বয়ে আসা ক্রস থেকে আলেকজান্ডার সরলথ বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিনকে শারীরিক শক্তিতে পরাস্ত করে গোল করেন। এই গোলে আতলেতিকো ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচ থেকে কার্যত বার্সেলোনাকে ছিটকে দিতে সক্ষম হয়। বার্সেলোনার প্রধান ভরসা মার্কাস রাশফোর্ড প্রথমার্ধে একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়, যা তাদের ভাগ্যকে আরও বিষাদময় করে তোলে।

ফিরতি লেগের চ্যালেঞ্জ

বার্সেলোনা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে ২০১৫ সালে, এবং গতবার তারা সেমিফাইনালে খেললেও এবার কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায়ের উপক্রম হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে বার্সেলোনাকে ঘরের মাঠে করা ২ গোলের এই ঘাটতি মেটাতে হবে, যা একটি কঠিন কাজ বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত মার্চ মাসে কোপা দেল রেতে বার্সাকে হারিয়েই আতলেতিকো সেমিফাইনালে উঠেছিল, এবং এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনবার মুখোমুখি হওয়ার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সিমিওনের দলই এগিয়ে রয়েছে। এই ম্যাচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে আতলেতিকোর কৌশলগত দূরদর্শিতা এবং বার্সেলোনার ভাগ্যবিড়ম্বনা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আগামী ফিরতি লেগটি এখন অপেক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।