লোহাগাড়ায় সাংবাদিকের জমি দখলচেষ্টা, পরিবারকে মারধর ও হুমকি
লোহাগাড়ায় সাংবাদিকের জমি দখলচেষ্টা, পরিবারকে হুমকি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এক সাংবাদিকের পারিবারিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বাধা দিতে গেলে তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার বিকালে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবদুল মজিদ চৌধুরী শাহরিয়ার লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর-১৯৬ হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শাহরিয়ার ওই এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজের ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। তবে সম্প্রতি সেই মীমাংসিত সীমানা নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, শাহরিয়ার কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তার জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পিলার ভেঙে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

শাহরিয়ারের মা মরিয়ম বেগম বলেন, বাড়িতে শুধু আমরা তিনজন নারী ছিলাম। ঘটনার দিন প্রতিবেশী জাফর আহমদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন ইফনান (৩৪), শের আলীর ছেলে মুরাদ এবং তার মা শাহেদা ইয়াসমিন (৩৮) আমাদের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সীমানার পাকা পিলার ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তারা আমাকে ও আমার ছেলের স্ত্রীকে মারধর করেন। ইফনান প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় আমাদের জমিতে প্রবেশ করে পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত জমির সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেন এবং লোকজন জড়ো করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংবাদিক শাহরিয়ার বলেন, মৃত শের আলী চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে ২০২২ সালে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। ওই সময় আমাদের সীমানায় স্থায়ী পিলার স্থাপন করা হয়েছিল। তখন কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহমেদ নিজে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন; কিন্তু চার বছর পর সেই মীমাংসিত জমিতে প্রকাশ্যে দিবালোকে সীমানা পিলার ভেঙে দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গিয়াস উদ্দিন ইফনান কোনো জনপ্রতিনিধি নন। তিনি কেন সেখানে সালিশ করতে গেলেন, তার ভূমিকা কী? এটি দুই পক্ষের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে নির্ধারিত চূড়ান্ত সীমানা, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হয়। যদি কোনো আপত্তি থাকত, তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। বর্তমান চেয়ারম্যান নিজে ২০২২ সালে ঘটনাস্থলে পরিমাপের সময় উপস্থিত ছিলেন। আইন উপেক্ষা করে গিয়াস উদ্দিন কেন পিলার ভাঙলেন, আমি তার বিচার চাই।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযুক্ত মুরাদ বলেন, আমার সীমানা পিলার ভেঙেছি সমস্যা কোথায়, চিহ্ন তো রয়েছে। অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন ইফনান জানান, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে পূর্বনির্ধারিত সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০২২ সালে আমার উপস্থিতিতে বিরোধটি নিষ্পত্তি হয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।