চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ: বেলিংহাম-এমবাপ্পের ফেরা চাবিকাঠি
কলোসিয়ামের রক্তাক্ত যোদ্ধার মতোই আহত অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হারলেও, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মাঠ ছাড়ার সময় রিয়ালের মুখে হতাশা ছিল না। বরং, দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। রিয়াল কোচের দৃঢ় বিশ্বাস, মিউনিখে যদি কেউ জিততে পারে, তবে সেটি রিয়ালই। এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু যুক্তিসঙ্গত কারণ, যা রিয়ালের ভয়ংকর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বেলিংহাম ও মিলিতাওর ফেরা: মাঝমাঠে শক্তি বৃদ্ধি
চোটের কারণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর জুড বেলিংহাম গতকাল রাতে মাঠে ফিরে ২৮ মিনিট খেলেছেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তিনি তাঁর ঝলক দেখিয়েছেন, যা দ্বিতীয় লেগে তাঁর মূল একাদশে থাকাকে অনেকটাই নিশ্চিত করে। বেলিংহামের ফেরা রিয়ালের মাঝমাঠে শক্তি বাড়াবে, যা বায়ার্নের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। একইভাবে, মিলিতাওর ফেরাও রিয়ালকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। টানা ৮ ম্যাচ দর্শক হয়ে থাকার পর আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় তাঁর উপস্থিতি দলের মনোবলকে চাঙ্গা করবে।
এমবাপ্পের সেরা ছন্দে ফেরা: রিয়ালের বড় সুখবর
কিলিয়ান এমবাপ্পে গতকাল রাতে ব্যবধান কমানো গোলটি করার পাশাপাশি দারুণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। চোট ও ছন্দহীনতা কাটিয়ে তিনি আবারও স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমবাপ্পের সেরা ছন্দে ফেরা রিয়ালের জন্য নিশ্চিতভাবেই বড় সুখবর। দ্বিতীয় লেগে আরও কার্যকর ও শাণিত এমবাপ্পেকে দেখা গেলে, তা বায়ার্নের রক্ষণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে জুটিতেও তিনি সাবলীল ছিলেন, ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শট ও সর্বোচ্চ অন টার্গেট শটের মালিক হয়েছেন। রিয়ালের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘এটাই সেই এমবাপ্পে, যাকে আমরা দেখতে চাই।’
বায়ার্নের দুর্বলতা: রিয়ালের জন্য সুযোগের জানালা
প্রথম লেগে বায়ার্ন জিতলেও তাদের রক্ষণ দুর্বলতার ছাপ স্পষ্ট। রিয়াল ২১ শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রেখেছে, এবং ম্যানুয়াল নয়্যার একাই ৯ গোল সেভ করেছেন দলের জয় নিশ্চিত করতে। নয়্যারের অসাধারণ পারফরম্যান্স ছাড়া এই ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। দ্বিতীয় লেগেও রিয়াল বায়ার্নের এই দুর্বল রক্ষণকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। ‘বুড়ো’ নয়্যার প্রতিটি ম্যাচে ‘অতিমানব’ হয়ে উঠবেন না, এটি রিয়ালের জন্য একটি বড় সুযোগ।
গোলের ব্যবধান ও কৌশলগত দিক
বায়ার্ন প্রথম লেগে ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে, অর্থাৎ রিয়ালের একটি গোলই ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনতে পারে। অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা না থাকায় বায়ার্ন বাড়তি কোনো অগ্রাধিকার পাবে না, ফলে লড়াই হবে উন্মুক্ত। এই পরিস্থিতিতে বায়ার্নের পক্ষে খুব বেশি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার সুযোগ নেই, তারা দ্রুত গোল আদায় করে নিজেদের সুরক্ষিত করতে চাইবে। এটি রিয়ালের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে, কারণ আক্রমণাত্মক খেলায় রিয়ালের দক্ষতা প্রমাণিত। তবে প্রথম লেগের মতো সুযোগ নষ্ট করলে রিয়ালকে বড় খেসারত দিতে হতে পারে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে রিয়াল মাদ্রিদ সবচেয়ে সফল দল, এবং তারা খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ওস্তাদ। বেলিংহাম, মিলিতাও ও এমবাপ্পের ফেরা, পাশাপাশি বায়ার্নের দুর্বলতা রিয়ালের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিয়াল কি আবারও ইউরোপিয়ান মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে।



