বিসিবিকে 'বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড' বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ, সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
বিসিবি 'বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড' বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

বিসিবি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক: 'বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড' মন্তব্য

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গতকাল ৭ এপ্রিল তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরব হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র প্রতিক্রিয়া

হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে তার বক্তব্যে বিসিবির নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে 'বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'বিসিবিকে যেভাবে দখল করা হয়েছে, তা আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই। এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।' তার এই মন্তব্য সংসদে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট

হাসনাত আবদুল্লাহ এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ার সময়। নির্বাচিত কমিটি বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, যা ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয় বলে তার দাবি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব

হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতেন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তদন্তের পর সেই বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।' তার এই বক্তব্যে সরকারের পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার সময়রেখা

  • গত অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়।
  • ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই পর্ষদ ভেঙে দেয়।
  • তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
  • ৮ এপ্রিল সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে চলমান অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে, যা খেলাধুলার স্বাধীনতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।