হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জার্সিতে এক বছর: 'জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত'
হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জার্সিতে এক বছর পূর্ণ

হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জার্সিতে এক বছর: 'জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত'

গত মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে মাঠে নামেন হামজা চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব লেস্টার সিটির এই তারকা ফুটবলার দেখতে দেখতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এক বছর পূর্ণ করেছেন। ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন, 'এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।'

এক বছরের মূল্যায়ন: অসাধারণ সময়

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সিতে তার এক বছরের যাত্রা মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, 'অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে দারুণ কিছু আমি আর চাইতে পারতাম না।' তবে এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপও তার মনের মধ্যে রয়েছে।

আক্ষেপ থেকে শক্তি অর্জন

হামজা বলেন, 'হ্যাঁ, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখবো, বুঝতে পারবো দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত বছরের মার্চে অভিষেকের পর থেকে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সিতে মোট ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে অংশগ্রহণ করেছেন। ইনজুরির কারণে কেবল নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তার খেলা প্রতিটি ম্যাচেই তিনি পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ৪টি গোল করেছেন।

দলের অগ্রগতি ও সাফল্যের ধাপ

যদিও হামজা চৌধুরী এখনো বাংলাদেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি, তবে ২০০০ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পর এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দল তলানিতে না থেকে যাত্রা শেষ করেছে। এছাড়া, ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর মতো ঐতিহাসিক সাফল্যও অর্জন করেছে হামজা ও তার সহকর্মীরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামজা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'এটি আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ। আমি মনে করি, গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো কোয়ালিফাই করা দলের মাঠে গিয়ে আমরা যে ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত এবং আশা করি এটি সামনের ক্যাম্পেইনে আমাদের দারুণ কাজে দেবে।'

সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা

গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে গ্যালারিতে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন, 'তারা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ম্যাচটি মূলত সিঙ্গাপুরের উদযাপনের মঞ্চ ছিল, তারপরও নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন! তাদের এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।'

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে নজর

এবার হামজা চৌধুরী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চোখ রাখছেন। তিনি বলেন, 'গ্রীষ্মে হয়তো আমরা কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলবো। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, যেখানে আমরা শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিজেদের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর আমাদের চোখ ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারবো।'

হামজা চৌধুরীর এই এক বছরের যাত্রা বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তার নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি দলকে আগামী দিনগুলোতে আরও বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।