সুনীল গাভাস্কারের কঠোর জবাব: দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ অস্বীকার
ভারতের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার সমালোচকদের দিকে সরাসরি জবাব দিয়েছেন। তাঁকে দ্বিমুখী নীতি বলার অভিযোগ তিনি একেবারেই মানতে নারাজ। গাভাস্কারের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের প্রসঙ্গে।
বিতর্কের সূত্রপাত: দ্য হানড্রেড ২০২৬ নিলাম
ঘটনার শুরু দ্য হানড্রেড ২০২৬ নিলাম থেকে। সেখানে পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স লিডস। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চেন্নাইভিত্তিক সান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান, যার নেতৃত্বে কালানিথি মারান। তাঁর মেয়ে কাব্য মারান সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, সানরাইজার্স লিডস ও সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের সহমালিক।
সানরাইজার্স লিডস নিলামে আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার পরই গাভাস্কার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্য ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের বিতর্ককে নতুন করে উসকে দেয়।
সমালোচকদের অভিযোগ: দ্বিমুখী নীতি?
এখানেই থামেনি আলোচনা। উল্টো প্রশ্ন উঠেছে গাভাস্কারকে নিয়েই। সমালোচকদের অভিযোগ—একদিকে তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে আপত্তি তুলছেন, অন্যদিকে নিজে আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্য প্যানেলে কাজ করছেন, এমনকি পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে অংশও নিয়েছেন। তাহলে ওটা কি দ্বিমুখী নীতি নয়?
এই অভিযোগের জবাবেই গাভাস্কারের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড ডে-তে তিনি বলেছেন, হ্যাঁ, আমি আইসিসি ও এসিসির ধারাভাষ্য প্যানেলে ছিলাম। কিন্তু সেই আয়ের অর্থ গেছে সব অংশগ্রহণকারী দেশের কাছে। কোনো ভারতীয় সংস্থা থেকে নয়, যত দূর জানি। আমি কাউকে পারিশ্রমিক দিই না—না ভারতীয়, না অন্য কোনো দেশের কাউকে। তাহলে আমাকে কীভাবে দায়ী করা যায়?
আরও বিতর্ক: ইউটিউব অনুষ্ঠান
গাভাস্কারকে নিয়ে সমালোচনার আরেকটি বিষয় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ চলাকালীন দুবাইয়ে একটি ইউটিউব অনুষ্ঠান। ডিপি ওয়ার্ল্ড ড্রেসিংরুম নামে সেই শোতে গাভাস্কারের সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস। এটাকেও অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলছেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গেই এক ফ্রেমে হাসিঠাট্টা করা তাঁকে মানায় না।
তবে গাভাস্কারের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না। এমনকি এশিয়া কাপ ঘিরে অনুরূপ আরেকটি অনুষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা নেই। গাভাস্কার বলেছেন, দুবাইয়ের ওই অনুষ্ঠানের জন্য আমি কোনো পারিশ্রমিক চাইনি, পাইওনি।
গাভাস্কারের চূড়ান্ত অবস্থান
তিনি আরও যোগ করেন, অন্য খেলাধুলায় কী হচ্ছে, আমি জানি না। আমি শুধু চাই, ভারতীয়রা যেন পাকিস্তানিদের অর্থ দেওয়া বন্ধ করে। খেয়াল করলে দেখবেন, উল্টোটা কিন্তু কখনোই হয়নি—দশকের পর দশক ধরে। এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, গাভাস্কার পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ অব্যাহত রেখেছেন, কিন্তু নিজের কাজে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই পুরো ঘটনাটি ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের জটিল সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সুনীল গাভাস্কারের মতামত ও অবস্থান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।



