পাকিস্তানি হওয়ার কারণে সিপিএলে কোচিং সুযোগ হারালেন আজহার মেহমুদ
পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদ একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, শুধুমাত্র পাকিস্তানি হওয়ার কারণে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) কোচিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তার। সম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে তিনি এই মর্মপীড়াদায়ক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন।
কোচিং প্রস্তাব ও প্রত্যাখ্যানের ঘটনা
প্রায় চার বছর আগে কোভিড-১৯ মহামারির পর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ চলাকালে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল মেহমুদকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে নেওয়া হয়নি। মেহমুদ পরে জানতে পারেন যে, পাকিস্তানি জাতীয়তার কারণেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার বলেন, 'আমাকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, আমি পাকিস্তানি হওয়ার কারণে তারা বলেছে, আমরা দলে কোনো পাকিস্তানি কোচ বা খেলোয়াড় রাখতে পারব না।' এই ঘটনাটি ক্রিকেট জগতে জাতীয়তা ভিত্তিক বৈষম্যের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
মেহমুদের কোচিং অভিজ্ঞতা
২০১৬ সালে আজহার মেহমুদ পাকিস্তান জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পান এবং তিন বছর ধরে এই পদে ছিলেন। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে টি–টোয়েন্টি সিরিজের জন্য তাকে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ করা হয়। গত বছর জেসন গিলেস্পি সরে যাওয়ার পর পাকিস্তান দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
জাতীয় দল ছাড়াও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও একাধিকবার বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন মেহমুদ। তার কোচিং অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডের সারে কাউন্টি ক্রিকেট পর্যন্ত বিস্তৃত।
বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ
মেহমুদ বলেন, 'এটা আমার জন্য আদর্শ পরিস্থিতি নয়। আমি ইংল্যান্ডে স্বীকৃত কোচ। সারে কাউন্টি ক্রিকেটে কোচিং করেছি। এরপর গত দুই বছর পাকিস্তান দলে কাজ করেছি। এই দুই বছর পাকিস্তান সেটআপে থাকার কারণে এখন নতুন দায়িত্ব পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে গেছে।'
ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টুয়েন্টি লিগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'সবকিছুই এখন আইপিএলের ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। চার–পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আছে, যেমন এসএ২০, মেজর লিগ ক্রিকেট। আইপিএল বা ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোতে কোচ হিসেবে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য কঠিন। বিষয়টি সহজ নয়। খেলোয়াড়দেরও একই বাস্তবতা।'
এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে জাতীয়তা ভিত্তিক বৈষম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। মেহমুদের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে, পেশাদার ক্রিকেটে এখনও এমন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান যা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে জাতীয়তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
