বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ফিরতি পর্ব শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা, ক্লাব ও খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা
৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর দেড় মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনও ফিরতি পর্বের খেলা কবে শুরু হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। শুরুতে একটি তারিখ দেওয়া হলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। নির্বাচন শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরও ক্লাবগুলো জানতে পারেনি খেলা ফের কবে শুরু হবে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্লাবগুলোর দীর্ঘ অনুশীলন ও হতাশা
আবাহনী লিমিটেড ও ফর্টিস এফসির মতো দলগুলো আগে থেকেই অনুশীলন করছে, কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, 'আমরা অনেক আগে থেকে অনুশীলন শুরু করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত ফিরতি লিগ কবে শুরু হবে জানি না। মুখে মুখে আগে একটা তারিখ দেওয়া হয়েছিল, সেটার কোনো ভিত্তি পাচ্ছি না। আসলে এভাবে চললে খেলোয়াড়দের মধ্যে একধরনের হতাশা চলে আসে।'
খেলোয়াড়দের মতামত ও প্রশাসনের নীরবতা
ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলা জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া লিগে বিরতি প্রসঙ্গে আগের দিন বলেছিলেন, 'ছুটি ভালো, কিন্তু বেশি ছুটি থাকলে ভালো লাগে না টু বি অনেস্ট।' অন্যদিকে, পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান ও কো চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে ফোনে পাওয়া যায়নি, যা প্রশাসনের যোগাযোগগত দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
লিগ কমিটির আশ্বাস ও ধৈর্যের অনুরোধ
লিগ কমিটির এক সদস্য সেলিম সাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, 'দেশের ঘরোয়া লিগের অন্যতম প্রধান আসর বাংলাদেশ ফুটবল লিগ (বিএফএল) নিয়ে সমর্থক, ক্লাব ও খেলোয়াড়দের আগ্রহ আমরা সম্মানের সঙ্গেই দেখছি। কিছু প্রশাসনিক ও সমন্বয় সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। নিরাপত্তা, সূচি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা হবে।'
তিনি আরও আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, 'আমরা প্রত্যাশা করছি, সবকিছু চূড়ান্ত করে কোনো অযাচিত সমস্যা তৈরি না হলে, আগামী সপ্তাহ থেকেই শীর্ষ লিগের দ্বিতীয় পর্ব মাঠে গড়াবে। খেলাটা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শুরু হয়, সে বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে আর একটু ধৈর্য ধরার অনুরোধ রইলো।'
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ফিরতি পর্ব শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে ক্লাব, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের আস্থা বজায় থাকে এবং দেশের ফুটবল উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যায়।
