কলম্বোতে নামিবিয়ার বিপক্ষে বিশাল জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে পাকিস্তান
না, কোনো অঘটন নয়! কলম্বোতে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সহজ ও বিশাল জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। টসে জিতে আগে ব্যাট করে সাহিবজাদা ফারহানের দারুণ সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান তুলেছিল সালমান আগার নেতৃত্বাধীন দলটি। সেই রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া দল গুটিয়ে গেছে মাত্র ৯৭ রানে। ১০২ রানের এই বিশাল জয়ে পাকিস্তান সুপার এইট পর্বে জায়গা করেছে ৬ পয়েন্ট নিয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এখন ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলবে সালমানের দল। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগও নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের।
নামিবিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় ও পাকিস্তানের বোলিং আধিপত্য
রান তাড়ায় নামিবিয়া ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলবে, এমনটা আবহ দলটি তৈরিই করতে পারেনি। মাত্র ৭.৩ ওভারে ৪৯ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট, একে একে ফিরে যান লরেন স্টিনক্যাম্প, ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনদের মতো মূল ব্যাটসম্যানরা। পরের ৬ উইকেটে যোগ হয়েছে মাত্র ৪৮ রান। পাকিস্তানের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং প্রদর্শন করেছেন স্পিনার উসমান তারিক। ডান হাতি এই রহস্য স্পিনার মাত্র ১৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। লেগ স্পিনার শাদাব খানও ১৯ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট, যা নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
ফারহানের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও রেকর্ড ভাঙা ইনিংস
এর আগে ব্যাট হাতে পাকিস্তান ১৯৯ রান করে ফারহানের প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি সেঞ্চুরিতে। ২৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ৫৭ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন করেছেন, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছে। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদের ৫৮ বলে সেঞ্চুরি। উল্লেখ্য, টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে শুধু ফারহান ও শেহজাদই সেঞ্চুরি করেছেন। ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়, এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ফারহানের ইনিংসের গতি ও দলের অবদান
সেঞ্চুরির পথে আজ ফারহান হাঁকিয়েছেন ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। তবে শুরুটা ছিল ধীরগতির—ইনিংসের প্রথম ৩০ রান করতে তিনি খেলেন ২৭ বল। তবে পরের ৭০ রান করেন মাত্র ৩১ বলে, যা তার আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করে। ফারহানের পাশাপাশি পাকিস্তান রান পেয়েছে শাদাব ও সালমানের ব্যাট থেকেও। শেষদিকে শাদাব ২২ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার আগে অধিনায়ক সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন, যা দলের রান সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফারহানের শীর্ষ অবস্থান ও ম্যাচসেরা পুরস্কার
এই সেঞ্চুরির সুবাদে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও এখন ফারহান। তাঁর মোট রান ২২০, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করামের ১৭৮ রানের থেকে অনেক এগিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই, ম্যাচসেরা হয়েছেন ফারহানই, তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে জয় এনে দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর ও ফলাফল
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (ফারহান ১০০, সালমান ৩৮; ব্রাসেল ২/৪৮, ইরাসমাস ১/২৫) নামিবিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৯৭ (স্টিনক্যাম্প ২৩; তারিক ৪/১৬, শাদাব ৩/১৯) ফল: পাকিস্তান ১০২ রানে জয়ী ম্যাচসেরা: সাহিবজাদা ফারহান
