ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তরিত হতে পারে আইসিসির দুটি বড় ইভেন্ট
ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তরিত হতে পারে আইসিসির ইভেন্ট

ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তরিত হতে পারে আইসিসির দুটি বড় ইভেন্ট

ক্রিকেট বিশ্বে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারতে না হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তরিত হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র দ্য এজ এই তথ্য জানিয়েছে, যদিও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অনিশ্চয়তা

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতের দিকে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে তারা নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করলেও, আইসিসি সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে স্কটল্যান্ড।

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিসিসিআই)-এর বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক রূপরেখা গ্রহণ করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব ক্রিকেটেও পড়ছে, যা এই টুর্নামেন্ট স্থানান্তরের মূল কারণ হতে পারে।

চুক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ভারত ও পাকিস্তান আইসিসির সঙ্গে একটি চুক্তি অনুযায়ী, দু’দেশই একে অপরের দেশে বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় খেলবে না। এই চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ। পরিস্থিতি জটিল থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থাই ২০২৭ সালের পরেও প্রযোজ্য হবে।

২০২৯ সালে ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যদি ভারতে অংশ না নেয়, তাহলে বিসিসিআইকে হয় হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে, অথবা পুরো প্রতিযোগিতা অন্য দেশে স্থানান্তর করতে হবে। আইসিসি এই অতিরিক্ত যাতায়াত ও খরচজনিত জটিলতা পছন্দ করছে না।

আইসিসির আয় ও সিদ্ধান্ত

তবু, ভারতে টুর্নামেন্ট হলে আইসিসির আয়ও বাড়বে। তাই অনেকের ধারণা, আইসিসি চাইলেও সম্পূর্ণভাবে ভারত থেকে প্রতিযোগিতা সরাতে পারবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দেখা বাকি। আইসিসি এই বিষয়ে আরও আলোচনা ও মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু এখনও সবকিছু অনিশ্চিত। ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।