দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে সুপার এইটে অপরাজিত অবস্থান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে অপরাজিত থেকেই খেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দিল্লিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া আমিরাত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে সংগ্রহ করে ১২২ রান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমিরাতের শ্লথ ইনিংস ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আধিপত্য
পরের পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে চার পরিবর্তন আনে। ডেভিড মিলার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশভ মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডিকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। আমিরাতের ইনিংসের শুরুটা ছিল শ্লথ গতির। আরিয়ানশ শর্মা (১৩) ও অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম (২২) উদ্বোধনী জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন। তবে করবিন বশ ও জর্জ লিন্ডের আঘাতে ভেঙে যায় সেই জুটি।
এরপর লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়ার আশা টিকে ছিল মূলত আলিশান শরাফুর ব্যাটে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় ধীরে ধীরে গতি হারায় আমিরাতের ইনিংস। ৩৮ বলে ৪৫ রানে বিদায় নেন শারাফু। তার পর শেষ চার ওভারে মাত্র ২০ রান যোগ করতে পারে দলটি। ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন বশ। ২৮ রানে ২টি নেন আইনরিখ নর্কিয়া, যা আমিরাতের রান সংগ্রহকে সীমিত করে দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দ্রুত রান তোলা ও জয় নিশ্চিতকরণ
ইনিংস বিরতিতে বৃষ্টির কারণে খেলা কিছু সময় বন্ধ ছিল। বিরতির পর ব্যাট করতে নেমে দ্রুত সূচনা এনে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম। মাত্র ১১ বলে ২৮ রান করে ফেরেন তিনি। বেশিক্ষণ থিতু হননি কুইন্টন ডি ককও (১৪), যা দলের রান রেট বাড়িয়ে দিয়েছে।
এরপর রায়ান রিকেলটন (৩০) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (৩৬) রান তোলার গতি ধরে রাখেন। জয়ের মঞ্চ গড়ে রায়ান রিকেলটন ১৬ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা। জয়ের কাছে থাকা অবস্থায় ব্রেভিসও ফেরেন ২৫ বলে ৩৬ রানে। তার ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৩টি ছক্কা। ৪ উইকেট হারালে তার পর ১৩.২ ওভারে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ত্রিস্টান স্টাবস (৬*) ও জেসন স্মিথ (৩*), যা দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের পরিচয় দিয়েছে।
এই জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইট পর্বে অপরাজিত অবস্থান বজায় রেখেছে, যা তাদের টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আমিরাতের বিদায় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তারা লড়াই চালিয়ে গেছে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সামগ্রিক পারফরম্যান্স তাদের পরাজয় নিশ্চিত করেছে।
