বিশ্বকাপজয়ী মেসুত ওজিল ঢাকায়, উদ্বোধন করলেন তুর্কি প্রজেক্ট 'টীকা'
ওজিল ঢাকায়, তুর্কি প্রজেক্ট 'টীকা' উদ্বোধন

বিশ্বকাপজয়ী মেসুত ওজিলের ঢাকা সফর: তুর্কি প্রজেক্ট 'টীকা' উদ্বোধন ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ জয় করা সাবেক জার্মান সুপারস্টার মেসুত ওজিল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি একটি মানবিক মিশনে বাংলাদেশে এসেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো তুর্কি সরকারের আওতাধীন 'টীকা' নামের একটি উন্নয়নমূলক প্রজেক্টের উদ্বোধন করা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'টীকা' প্রজেক্টের উদ্বোধন

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, মেসুত ওজিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে 'টীকা' প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই প্রজেক্টটি শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নমূলক কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করছে। তুর্কি সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ওজিলের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ইফতারে অংশগ্রহণ

জানা গেছে, মেসুত ওজিল আসন্ন রমজান মাসে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে দেখতে যাবেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনের পর তিনি আগামীকাল, ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি ইফতারে অংশ নেবেন। এই ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি শরণার্থীদের সাথে সময় কাটাবেন এবং তাদের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর তিনি রাতেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওজিলের বাংলাদেশ আগমন ও কর্মসূচি

মেসুত ওজিল গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশে আসেন, যা তার এই সংক্ষিপ্ত সফরের সূচনা করে। তার কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজেক্ট উদ্বোধন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাবেক এই ফুটবল তারকা তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন, এবং এই সফর তার সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওজিলের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন, এবং তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তার উপস্থিতি স্থানীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার পরিদর্শন শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।