বাজ্জোর আক্ষেপ: ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের পেনালটি মিস আজও পোড়ায় ইতালীয় লিজেন্ডকে
বাজ্জোর আক্ষেপ: ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের পেনালটি মিস

বাজ্জোর আক্ষেপ: ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের পেনালটি মিস আজও পোড়ায় ইতালীয় লিজেন্ডকে

ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো বাজ্জো তার ৫৯তম জন্মদিনে ফোর্বস ইতালিয়া সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা বেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ফল নির্ধারণী পেনালটি মিসের স্মৃতি আজও তাকে পোড়ায়।

স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে রূপান্তর

বাজ্জো সাক্ষাৎকারে বলেন, 'শৈশব থেকে স্বপ্ন দেখতাম, একদিন ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলব। কেন এই স্বপ্ন লালন করেছিলাম, সেই সম্পর্কে আমার মনে রাখার মতো তেমন কোনো স্মৃতি নেই। স্বপ্ন তো স্বপ্নই, তার ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি সব সময় নিজেকে একজন অতি সাধারণ মানুষ হিসাবে দেখি। শুধু ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম অনুরাগই আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই অনুরাগ এমনই গভীর যে, সকাল থেকে রাত কেটে যায় শুধু ফুটবল নিয়ে ভেবে।'

বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ

বাজ্জো তিনটি বিশ্বকাপে ইতালির প্রতিনিধিত্ব করেছেন:

  • ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালি তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
  • ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালি রানার্সআপ হয়, যেখানে ফাইনালে পেনালটি মিস করেন বাজ্জো।
  • ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইতালি শেষ আট থেকে বাদ পড়ে, যেবার চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স।

তিনি বলেন, 'তিনটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ইতালি হেরেছে টাইব্রেকারে, যে দুঃস্বপ্ন ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।'

১৯৯৪ ফাইনালের ট্র্যাজেডি

বাজ্জোর সবচেয়ে বেদনার স্মৃতি ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল। তিনি বলেন, 'যে কোনো মূল্যে ’৯৪ বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। গোটা পৃথিবীর বিনিময়ে হলেও। ফাইনালের আগের রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটা চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিল মাথায়-কীভাবে বিশ্বকাপ জিতব। হয়তো ইতালির স্বপ্নপূরণ হবে আমার বাইসাইকেল কিকে।'

কিন্তু স্বপ্নপূরণ থেকে এক কদম দূরে থাকা অবস্থায় পেনালটি মিস করেন তিনি। বাজ্জো বলেন, 'ওই পেনালটি মিসের পর আমি মরতে চেয়েছিলাম। এটি একটি অবিশ্বাস্য ট্র্যাজেডি, আজও সেই কষ্ট বয়ে বেড়াই।'

ফুটবল সেনানীর অন্তর্দৃষ্টি

বাজ্জো নিজের সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবল সেনানী হিসাবে পরিচিত। তিনি বলেন, 'আমি নিজেকে কখনোই বিশেষ মনে করি না, কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আমাকে আলাদা করে।' এই সাক্ষাৎকারটি তার হারানো দিনের অমূল্য রত্নভান্ডারতুল্য, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ইতালি ফুটবল দলের এই লিজেন্ডের কথাগুলো আজও ফুটবল বিশ্বকে নাড়া দেয়, বিশেষ করে যারা ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো স্মরণ করেন তাদের জন্য।