এশিয়ান গেমসের টিকিট পাওয়ার আনন্দ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে জাকার্তা থেকে ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। কিন্তু আনন্দে ডুবে থাকার ফুরসত নেই। জাকার্তা জয় করা জাতীয় দলের আট সদস্য দেশে ফেরার এক দিন পরই অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সঙ্গে স্টিক হাতে অনুশীলনে নেমে পড়েছেন বিকেএসপির সবুজ টার্ফে।
জুনিয়র এশিয়া কাপের লক্ষ্য
এবার লক্ষ্য জাপানের মাটিতে জুনিয়র এশিয়া কাপে ভালো কিছু করা। ২৯ মে থেকে ৬ জুন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বাংলাদেশ ছেলে ও মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ দল। দুই দলই জাপানের বিমানে চড়বে ২৭ মে। এর আগে আজ থেকে বিকেএসপিতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ক্যাম্প।
নারী দলের চ্যালেঞ্জ
মেয়েদের জন্য এবারের যাত্রাটা ঠিক আগের মতো মসৃণ নয়। গত বছর তারা প্রথমবার অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছিল, জিতেছিল ব্রোঞ্জ। কিন্তু এবার গ্রুপ পর্বে তাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জাপান আর রানার্সআপ চীন। সঙ্গে আছে শক্তিশালী চায়নিজ তাইপেও।
মাঠের লড়াই কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, তা কোচ জাহিদ হোসেনের কথায়ও স্পষ্ট: 'গতবার কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ সহজ ছিল। সে জন্য আমরা প্রথম অংশ নিয়ে একটা পদক জিততে পেরেছি। এবার সেটা কঠিন হবে।'
তবে কঠিন মানেই মেনে নেওয়া নয়, কোচের কণ্ঠে সেই প্রত্যয়: 'আমরা আশা ছাড়ছি না। ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই ইতিবাচক কিছু পাওয়া যাবে। মেয়েরা খুব আত্মবিশ্বাসী। তারা এই বাধাটা জয় করতে চায়।'
ছেলেদের আক্ষেপ মোচনের লক্ষ্য
অন্যদিকে ছেলেদের লক্ষ্য আক্ষেপ মোচনের। গত আসরে খুব কাছে গিয়েও তারা পদক ছুঁতে পারেনি, ফিরতে হয় চতুর্থ হয়ে। এবার একই গল্পের পুনরাবৃত্তি চায় না তারা। ছেলেদের গ্রুপেও আছে পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবু সেমিফাইনালে খেলার অদম্য লক্ষ্য নিয়ে কোচ মওদুদুর রহমানের অধীন ঘাম ঝরাচ্ছে দল।
ইপিলিয়ন গ্রুপের আর্থিক সহায়তা
দুই দলের স্বপ্নের পালে বাড়তি হাওয়া দিয়েছে ইপিলিয়ন গ্রুপ। নারী দলের সাম্প্রতিক সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছে দেশের হকির নতুন এই মিশনে। জুনিয়র এশিয়া কাপের প্রস্তুতি যেন আরও নিখুঁত হয়, সে জন্য এক কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে তারা। গতকাল হকি ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে ফেডারেশন এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান হকিতে পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন: 'বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ও পুরুষ হকি দলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ইপিলিয়ন গ্রুপ ও সেইলরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাদের এই সহায়তা দলের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।' পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষে অনুষ্ঠানে ছিলেন সেইলরের চিফ এক্সিকিউটিভ রেজাউল কবির।



