বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার পিছু নিল নতুন ‘অভিশাপ’
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার পিছু নিল নতুন ‘অভিশাপ’

লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। শুধু শিরোপা ধরে রাখার লড়াই নয়, তাদের সামনে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের কয়েকটি অদ্ভুত পরিসংখ্যান ও দীর্ঘদিনের ‘অভিশাপ’ ভাঙার দায়িত্বও।

বিশ্বকাপের নতুন আঙ্গিক ও চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। আগের চেয়ে বেশি দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা নিয়ে এক অস্বস্তিকর ইতিহাস।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক সিলভিও মাভেরিনোর তথ্য অনুযায়ী, স্পেন ও ইরাকের ১-১ গোলের ড্রয়ের পর ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। একই সময়ে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্স ২-১ গোলে কোত দিভোয়ারের কাছে হেরে যাওয়ায়ও লাভবান হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ফলে বিশ্বকাপের আগে বিশ্বের সেরা দল হিসেবেই টুর্নামেন্টে নামবে তারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইতিহাসের অভিশাপ

এটি নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি নেতিবাচক ইতিহাসও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে টুর্নামেন্টে এসে কোনো দেশই শিরোপা জিততে পারেনি। অর্থাৎ আর্জেন্টিনাকে এবার শুধু প্রতিপক্ষদেরই নয়, ইতিহাসকেও হারাতে হবে।

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং চালু হয় ১৯৯২ সালে। এরপর থেকে আটটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আটবারই র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলগুলো বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা করেছে। কিন্তু কেউ সফল হয়নি। ফলে ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ রয়েছে এই দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি পুরোনো রেকর্ড বদলে দেওয়ার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফুটবল বিশ্বের আলোচনা

অবশ্য এই পরিস্থিতি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ‘অভিশাপ’ হিসেবে দেখছেন। কারণ বারবার একই ঘটনা ঘটেছে। তবে ইতিহাসের প্রতিটি রেকর্ডই একদিন না একদিন ভাঙে। আর্জেন্টিনা সেই কাজটি করতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন

মেসি ও তার সতীর্থদের সামনে আরেকটি ঐতিহাসিক সুযোগও রয়েছে। তারা টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ফুটবল ইতিহাসে গত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো দেশ পরপর দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল। তারা ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল। পরে ১৯৭০ সালেও বিশ্বকাপ জিতে চার আসরের মধ্যে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়ে। ব্রাজিলের বাইরে শুধু ইতালিই টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। তারা ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে শিরোপা জিতেছিল। যদিও সেই দুটি আসর নিয়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়েছে।

ফাইনালে ওঠার পরিণতি

১৯৭০ সালের পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠতে পেরেছে মাত্র তিনটি দেশ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ফ্রান্স এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু তিন দলই শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছেড়েছে।

এই পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার জন্য সতর্কবার্তা। কারণ ইতিহাস বলছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পরের আসরে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। এখন দেখার বিষয়, মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কি ইতিহাস বদলে নতুন অধ্যায় লিখতে পারে, নাকি অতীতের সেই মিথগুলো আবারও অটুট থেকে যায়।