ফুটবল বিশ্বের সফলতম দল ব্রাজিল তাদের সর্বশেষ তথা পঞ্চম বিশ্বকাপ ট্রফিটি জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর থেকে প্রতি আসরেই দলটি গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারলেও নকআউট পর্ব থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। গত পাঁচ আসরে সেলেসাওরা চারবার কোয়ার্টার ফাইনাল এবং একবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। তবে অতীতের সব ব্যর্থতা ভুলে প্রতিবারের মতো এবারও তারা ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। শিরোপা জয়ের চিরাচরিত বিশ্বাস এবারও দলের মধ্যে বরাবরের মতোই থাকবে।
ওয়েভারটনের মতে সাফল্যের চাবিকাঠি
তবে এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে হলে মাঠের দৃঢ় মানসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতার পাশাপাশি দলের ভেতরের আরেকটি বিশেষ বিষয়ে নজর রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া গোলকিপার ওয়েভারটন। গত বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের মূল দলে থাকা এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের মতে, হেক্সা জয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত অহংকার আর দম্ভকে পেছনে ফেলতে হবে। দলগত ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবকিছু আসলে নির্ভর করছে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি পুরো দলের দায়বদ্ধতার ওপর। আমাদের নিজেদের অহংকার আর অহমিকা পেছনে ফেলে রেখে সবার একই উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা দুর্দান্ত একঝাঁক খেলোয়াড় এখানে একত্রিত হয়েছি, যারা এই বড় সুযোগটি লুফে নিতে এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
ওয়েভারটনের ব্যক্তিগত অনুভূতি
উল্লেখ্য, গত বিশ্বকাপের দলেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ওয়েভারটন এবং সেই আসরে দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে দেখেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে দলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি আসার পর ওয়েভারটনকে কখনো দলে ডাকেননি। ফলে এবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে আদৌ জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে হয়তো এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। আর সে কারণেই দলে নিজের নাম দেখার পর আনন্দের পাশাপাশি কৃতজ্ঞতায় ভেসেছেন এই গোলরক্ষক। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েকটা দিন আমার জন্য খুবই স্পেশাল ছিল, মনটা এক অদ্ভুত আনন্দ এবং কৃতজ্ঞতায় ভরে গেছে। আমি ঈশ্বরের প্রতি ও সেই সব মানুষের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাকে এত দূর আসতে সাহায্য করেছেন। প্রতিদিন আমি সেই বিশেষ সুযোগটির কথা ভাবি যা আমাদের সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার জন্য এসেছে। আমরা এমন একটি জাতির প্রতিনিধিত্ব করছি যারা ফুটবলকে ভীষণ ভালোবাসে এবং তারা ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরার মিশনে সবসময় দলের পাশে থাকবে।’
গোলকিপারদের মধ্যে সম্পর্ক
আসন্ন বিশ্বকাপে আলিসন ও এদেরসনের সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্রাজিলের তিন গোলকিপারের একজন হিসেবে অংশ নেবেন ওয়েভারটন। মূল একাদশে খেলার সুযোগ হয়তো তিনজনের মধ্যে কেবল একজনই পাবেন, তবে মাঠের বাইরে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া যে দারুণ, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। সতীর্থ দুই গোলকিপারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ওয়েভারটন বলেন, ‘চমৎকার গোলরক্ষক হওয়ার পাশাপাশি তারা দুজনই অসাধারণ মানুষ। বন্ধু হিসেবে তাদের পাশে পাওয়াটা আমার জন্য অনেক বড় ভাগ্যের ব্যাপার। ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল এবং একে অপরের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা ছিল। গোলরক্ষক হিসেবে আমরা খুব ভালো করেই জানি যে আমাদের মধ্যে কেবল একজনই মূল ম্যাচে খেলার সুযোগ পাবে। কিন্তু আমরা প্রতিদিন অনুশীলনে একে অপরকে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করি যাতে আমরা তিনজনই নিজেদের সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করতে পারি। আমাদের মধ্যে যে-ই মাঠে নামার সুযোগ পাক না কেন, সে সবসময় বাকিদের কাছ থেকে পূর্ণ উৎসাহ ও সমর্থন পেয়ে যাবে।’



