চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: নতুন শিক্ষাবর্ষে সাত ইভেন্টে শুরু
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের ডিভাইস আসক্তি কমিয়ে মাঠমুখী করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি ইভেন্ট
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সাতটি ইভেন্টের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পর্যায়ক্রমে আরও ইভেন্ট যুক্ত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়। এই পদক্ষেপটি শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রীড়াঙ্গন দলীয়করণমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান
একই অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গনের দলীয়করণ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে ক্রিকেট বোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন খেলাধুলায় দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ক্রীড়াঙ্গন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ক্রীড়াকে দলীয়করণ ও রাজনীতিমুক্ত করতে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বিসিবিতে তদন্ত কমিটি গঠন
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-তে বিগত সময়ের নিয়োগ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করা হবে। ২০০৮ সালের পর থেকে যেসব নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিসিবির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বোর্ডের অর্থ ও জনবল অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, এবং এসব বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ
সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে খেলোয়াড় তৈরির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি যুব সমাজের জন্য নতুন ক্যারিয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগগুলো শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খেলাধুলার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



