চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মো. রিফাতুল ইসলাম (১৯) নামে এক পর্যটকের লাশ ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা লাশটি খালের মুখে ভাসতে দেখে ডুবুরি দলকে জানালে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করে।
নিখোঁজের ঘটনা
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে পাঁচ যুবক গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নামেন। এ সময় তারা পানিতে তলিয়ে গেলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চারজনকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু রিফাত নামে এক যুবক নিখোঁজ হন। রিফাতুল ইসলাম গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরের খাইরুল ইসলামের ছেলে।
উদ্ধার তৎপরতা
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিম উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করে। রোববার সকালে ডুবুরি টিম উদ্ধার কাজ শুরু করে। স্থানীয় লাকি আহমেদ খান লাশটি খালের মুখে একটি গাছের সঙ্গে আটকে থাকতে দেখে উদ্ধারকর্মীদের জানান। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘সমুদ্রে নিখোঁজ পর্যটকের লাশটি খালের মুখ থেকে আমরা উদ্ধার করি। এ সময় ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং পুলিশ টিম উপস্থিত ছিল।’
শোকে খালাতো ভাইয়ের মৃত্যু
রিফাতের নিখোঁজের খবর শুনে গুলিয়াখালী সৈকতে আসা তার খালাতো ভাই মামুন (৩৫) শনিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মামুন কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার মাইশাল গ্রামের মহসিনের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভাইয়ের নিখোঁজের খবর পেয়ে শনিবার রাতেই গুলিয়াখালী সৈকতে ছুটে আসেন রিফাতের খালাতো ভাই মামুন, মামা মেহেদী হাসান ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন। রাতে রিফাতের খোঁজ না পেয়ে তারা কুমিল্লার দিকে ফিরে যাওয়ার পথে গুলিয়াখালী সৈকতেই মামুন হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে সীতাকুণ্ডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পর একটু সুস্থতাবোধ করলে আবার তারা কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। চান্দিনা পৌঁছলে মামুন আবার অসুস্থতাবোধ করলে তাকে চান্দিনার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিফাত ও মামুনের মামা মেহেদী হাসান দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, ‘মামুন কুমিল্লা ফিরে যাওয়ার পথে গাড়িতে অসুস্থতা বোধ করলে চান্দিনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ একই পরিবারে দুই সদস্যের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিসের বিবরণ
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘শনিবার বিকালে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেই। রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করে রোববার সকালে আবার শুরু করি। সকাল ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’



