জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পালিত হতে যাচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন

নববর্ষের আগমন, ঐক্য, শান্তি ও উত্তরণের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পালিত হতে যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজনের। বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং আর্ট প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন থাকছে এবারের অনুষ্ঠানমালায়। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর, চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা বর্ষবরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঁশ, কাগজসহ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন শৈল্পিক কাঠামো। পাশাপাশি রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা দিক।

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার সময়সূচি

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান রফিক ভবনের সামনে সকাল ৮টায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হবে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিক্টোরিয়া পার্ক ও রায় সাহেব বাজার ঘুরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে। শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১১টা থেকে বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। বিকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত লালন ব্যান্ডের লোকজ সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শেষ হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের শিক্ষার্থী দেবব্রত ভৌমিক দুর্জয় বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি।” এবারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চমকপ্রদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, “প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। শুরুতে বাজেট সংকট ছিল, পরে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজন চলবে। এবার পহেলা বৈশাখ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈচিত্র্যময়ভাবে উদযাপন করা হবে। বৈশাখী মেলা, কনসার্ট ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনার মাধ্যমে উৎসবটি সবার জন্য উপভোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নববর্ষের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান বলেন, “প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বর্ষবরণ আয়োজন করা হবে বলে আমরা আশা করছি।” সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সচেতন। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। কোনও প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় প্রস্তুত থাকবে।”

এই আয়োজনের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাঙালির সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।