ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করছে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: উভয় পক্ষ বিজয় দাবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করছে

ইরানের ওপর দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে 'পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়' বলে অভিহিত করেছেন, অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল একে 'ঐতিহাসিক বিজয়' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ট্রাম্পের 'পূর্ণাঙ্গ বিজয়' দাবি

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গতকাল মঙ্গলবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'এটা পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশ নেই।' হোয়াইট হাউস থেকেও এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে 'যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিজয়' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 'এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী এটা সম্ভব করেছে। তিনি হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দিয়েছেন।'

লেভিট আরও উল্লেখ করেন, 'আমরা ৩৮ দিনের মধ্যে আমাদের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি এবং তা অতিক্রম করে গেছি। সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এগিয়ে নিতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সক্ষমতাকে কখনো হালকাভাবে নেবেন না।' ট্রাম্প এই বিরতিকে 'দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন যে এটি হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের 'ঐতিহাসিক বিজয়' দাবি

অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল হামলা স্থগিতের ঘোষণার এক দিন পর বুধবার এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের 'ঐতিহাসিক বিজয়' বলে দাবি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরান তাদের ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। এই প্রস্তাবে নিম্নলিখিত শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা
  • হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা
  • নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা
  • অঞ্চলটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা
  • ক্ষতিপূরণ প্রদান

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। আলোচনায় চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে অধিক মনোযোগ দেওয়া হবে, তবে 'এর অর্থ এটা নয় যে, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে' বলে সতর্ক করা হয়েছে। তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাবিত নীতিগুলোকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন চলবে, তবে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। যেকোনো চুক্তি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে। যদি ইরানের দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ট্রাম্প ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য 'একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি' দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা রাজপথে নেমে উল্লাস করেছেন, যা অঞ্চলে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।