ধর্ষণের পর বিয়ে, যৌতুকের জন্য নির্যাতন: নেত্রকোনায় গৃহবধূর আত্মহত্যায় স্বামী গ্রেফতার
ধর্ষণ-বিয়ে-নির্যাতনে নেত্রকোনায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

ধর্ষণের পর বিয়ে ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে নেত্রকোনায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক মর্মান্তিক ঘটনায় সাহিদা আক্তার নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী মোনাইদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ও বিচারিক প্রক্রিয়া

বুধবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরি উপজেলার বোয়ালী গ্রাম থেকে মোনাইদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন নিশ্চিত করেছেন যে মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পটভূমি ও বিয়ের কাহিনী

গ্রেফতারকৃত মোনাইদ হোসেন উপজেলার বাখরপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে মৃত সাহিদা আক্তার পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার মেয়ে। উল্লেখ্য, সাহিদা মোনাইদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সংসারে মোনাইদের চার বছর বয়সি একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাসে গৃহবধূ সাহিদাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে মোনাইদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ নিয়ে সাহিদা আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সাহিদাকে বিয়ে করেন। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে সাহিদাকে তার আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিতে হয়।

বিয়ের পর নির্যাতনের চক্র

বিয়ের পর থেকেই মোনাইদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। মোনাইদ তাকে যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ি থেকে ছয় লাখ টাকা এনে দিতে বাধ্য করেন। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। তাদের অত্যাচারে একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সাহিদা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা

গত ২৯ মার্চ দুপুরে সাহিদা তার বাবার বাড়িতে গিয়ে বিষপান করেন। বিষপানের সময় তিনি বাবার বাড়ির লোকজনদের জানান কেন তিনি এই চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত সেখানেই রাতের বেলা তার মৃত্যু হয়।

মামলা ও পরিবারের বক্তব্য

এ ঘটনায় ১ এপ্রিল মৃত সাহিদার বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে স্বামী মোনাইদসহ পরিবারের সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শহীদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, "মোনাইদ মাদক সেবন করে, জুয়া খেলে। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে আমার মেয়েকে সে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করে। তাদের মারধর, গালাগাল, অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরে আমার মেয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।"

এই ঘটনা নেত্রকোনা অঞ্চলে নারী নির্যাতনের একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী মামলাটির তদন্তে সক্রিয় রয়েছে এবং সকল আসামিকে গ্রেফতারের জন্য কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।