প্রায় দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয় নজরুলজয়ন্তী উদযাপন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী এবার জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আজ শনিবার ত্রিশালের নজরুল অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় আয়োজন
প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম উল্লেখ করেন যে, ২০০৬ সালের পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুলজয়ন্তী উদযাপন হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বছর জাতীয়ভাবে ত্রিশালে অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। তাই আয়োজনটি আকর্ষণীয় করতে পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে এটি সারা দেশের জন্য একটি মডেল হয়।"
এত দিন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবছর ২৫ মে তিন দিনব্যাপী নজরুলজয়ন্তী ও মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা জাতীয় পর্যায়ে হচ্ছে। এই পরিবর্তন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি উন্নয়নের প্রস্তাব
মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে হলে নতুন করে পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সংস্কৃতিকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয়ভাবে ত্রিশালে নজরুলজয়ন্তী উদযাপনের উদ্যোগে স্থানীয় লোকজন আনন্দিত। তিনি উল্লেখ করেন, "এ অঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ আন্দোলন করেছে। নানা কারণে এত দিন তা সম্ভব হয়নি।"
স্থায়ী আয়োজন ও প্রতিষ্ঠান গড়ার দাবি
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এ আয়োজন স্থায়ী করা উচিত। পাশাপাশি তিনি কাজী রফিজুল্লাহ দারোগা, যাঁর হাত ধরে কবি নজরুল ইসলাম এ এলাকায় এসেছিলেন, তাঁর নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। প্রধান আলোচক ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা ত্রিশালের নজরুল-সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এই উদ্যোগ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



