নির্বাচনি আবহে দেরিতে হলেও বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব পালন করল সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ
নির্বাচনি আবহে দেরিতে বসন্ত উৎসব পালন করল সমগীত

নির্বাচনি আবহে দেরিতে হলেও বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব পালন করল সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ

নির্বাচনি আবহে কিছুটা দেরিতে হলেও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ’। দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

পহেলা ফাল্গুনের পরিবর্তে ৪ ফাল্গুনে আয়োজন

সাধারণত পহেলা ফাল্গুন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হলেও, এ বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে জনসমাগমে বিধিনিষেধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি করা সম্ভব হয়নি। তাই ৪ ফাল্গুন (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় এই বসন্ত উদযাপন। সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের সহ-সভাপ্রধান বীথি ঘোষ জানান, নির্বাচনের কারণে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় উৎসবের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।

শ্রদ্ধার্ঘ্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

এ বছরের উৎসবে সমগীতের পক্ষ থেকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করা হয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও অধ্যাপক আহমেদ কামালকে। অনুষ্ঠানে গানের সুরে দর্শকদের মুগ্ধ করেন কফিল আহমেদ, অরূপ রাহী, কৃষ্ণকলি, সায়ান, ওয়ারদা আশরাফ, বেতাল এবং লক্ষ্যাপাড়ের শিল্পীরা। এছাড়া আনন্দ ধারা স্কুল, সমগীত ও গঙ্গাফড়িং-এর দলীয় পরিবেশনা ছিল নজরকাড়া।

সাংস্কৃতিক এই মিলনমেলায় নৃত্যের ঝংকার তোলেন আদিবাসী নাচের দল ‘তপস্যা’ এবং শিশুদের সংগঠন ‘আমরা ও আমাদের পাঠশালা’। বসন্তের চিরচেনা রঙে সেজে গানের কথা, কবিতার ছন্দে এবং নৃত্যের মুদ্রায় শিক্ষার্থীরা প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠে।

আয়োজকদের ভাবনা

সমগীতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২০ বছর ধরে তারা এই উৎসবটি আয়োজন করে আসছে। তাদের মতে, “দুই দশকের এই ধারাবাহিক আয়োজন কেবল একটি উৎসব নয়, বরং প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করা এবং নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চায় সম্পৃক্ত করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।”

উৎসবে বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নেন।