ঢাকার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট। প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকায় এই অস্থায়ী গরুর হাটটি বসে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাটটির আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
হাটের ইজারা ও প্রস্তুতি
এবার হাটটির ইজারা পেয়েছেন কাজী মাহবুব মওলা হিমেল। চার কোটি এক লাখ টাকায় তিনি হাটটির ইজারা পেয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) সরেজমিন পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে হাট আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক বাঁশ কাটছেন, কেউ সামিয়ানা টাঙাচ্ছেন, আবার কেউ খুঁটি বসাচ্ছেন। হাটের অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজে এখনও ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
হাট সংশ্লিষ্ট দিদার হোসেন জানান, আগামী দুই একদিনের মধ্যেই এই হাটে গরু আসতে শুরু করবে। ইতোমধ্যে হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কাজ চলছে। ব্যাপারীরা যেন গরু নিয়ে এসে নির্বিঘ্নে থাকতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঢাকার মানুষ সাধারণত কোরবানির ২-১ দিন আগে থেকে গরু কেনা শুরু করেন। সেই হিসাব করেই ব্যাপারীরাও গরু নিয়ে আসেন। তবে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই হাটে গরু উঠতে শুরু করবে।”
শ্রমিকদের কাজ
হাটে বাঁশ বাধার কাজ করছিলেন শ্রমিক রবিউল। প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হাটকে কেন্দ্র করে আমরা বাঁশ বাঁধছি, যাতে পশুগুলো রাখতে সমস্যা না হয়। এখনও ত্রিপল টানানোসহ কিছু টুকটাক কাজ বাকি আছে, সেগুলোও চলছে।”
ব্যাপারীরা প্রস্তুত
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা হাসান নামের এক ব্যাপারী জানান, তিনি প্রতিবছরই এই হাটে গরু আনেন। এবারও প্রায় ১০০টি গরু আনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। আগেভাগেই হাটে এসে নিজের পছন্দের জায়গা ঠিক করে সেখানে ব্যানার টানিয়ে রেখেছেন। হাসান বলেন, “হাট কর্তৃপক্ষ এখনও গরু আনার নির্দেশ দেয়নি। তাই এখনও গরু আনিনি। তবে, জায়গা দেখে গেলাম। আমার পছন্দের জায়গায় অন্য কেউ যাতে গরু রাখতে না পারে, সেজন্য ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছি। যেহেতু বাঁশ-খুঁটি বসানো হয়েছে, দুই-এক দিনের মধ্যেই গরু নিয়ে আসবো।”
ক্রেতাদের আগ্রহ
শুধু বিক্রেতারাই নন, সম্ভাব্য ক্রেতারাও হাটে এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, “আমাদের বাসা এখানেই। আমরা প্রতিবছর এই হাট থেকেই গরু কিনি। তাই দেখতে এলাম গরু এসেছে কি না।”
ডিএসসিসির পরিকল্পনা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দক্ষিণ সিটি এলাকায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের ১১টি হাট বসবে। বিগত দিনের নিয়মেই হাটগুলো পরিচালিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেও কোনও হাট বসতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি হাটে আমাদের পর্যবেক্ষণ থাকবে। নির্ধারিত জায়গার বাইরে কেউ যেতে পারবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হবে। এ কাজে ইজারাদাররাও সহযোগিতা করবেন।”
হাটের তালিকা
ডিএসসিসির নির্ধারিত ১১টি পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে—উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটের পশ্চিম পাশের নদীর পাড়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউন, শ্যামপুর, সিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানি পাম্প পর্যন্ত অব্যবহৃত স্থান, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের দক্ষিণ পাশ, মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রীন বনশ্রী হাউজিং এলাকা এবং গোলাপবাগ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গা।
তবে, আইনি জটিলতার কারণে এবার সারুলিয়া ও আফতাবনগরে পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।



