মা দিবসে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ভার্চুয়াল আয়োজন ‘মাতৃত্বে মমতায় মা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবি কাদের নেওয়াজের ‘মা’ কবিতার কিছু অংশ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই বিশেষ আয়োজন। ১০ মে রাত সাড়ে আটটায় গুগল মিট অ্যাপে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তারা
সহসভাপতি নুরুজ্জামান খানের সঞ্চালনায় শুরুতে কথামালা নিয়ে আসেন বন্ধু তুষার কবির। তিনি বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে হঠাৎ মা দিবসে মায়ের জন্য একটা গিফট নিয়ে আসি। তখন মা কিছুটা মিষ্টি অভিমান সুরে বলে, “মায়ের জন্য দিবস এক দিন না, প্রতিদিন। মাকে মনে রাখতে হবে সারাক্ষণ, সারা জীবন।”’
উপদেষ্টা সঞ্জয় বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হয় জীবনে মায়ের কোন শিক্ষা তাঁকে এত দূর নিয়ে এসেছে? তিনি বলেন, ‘জীবনে কোথাও হার না–মানা, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার শিক্ষাটা মা দিয়েছিলেন। খুব অল্প বয়সে পিতাকে হারানোর পরে মা একই সঙ্গে বাবার ভূমিকাও পালন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা করে মা দিবস পালন করে, যা শিক্ষার্থীর ভেতর নৈতিক মানসিকতা তৈরি করে।’
মা হওয়ার আনন্দ
নিজের মা হওয়ার আনন্দের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বন্ধু সুরাইয়া শান্তার কাছে। তিনি বলেন, ‘নিজের সন্তানকে নিজের মতো গড়ে তোলার স্বাধীনতার মধ্যে আমি আনন্দ খুঁজে পাই।’
দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘ছোটবেলায় মায়ের শাসন বিরক্ত লাগলেও এখন বুঝি মায়ের এই শাসন কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জীবনে।’ এভাবে ক্রমেই জমে ওঠে মাকে নিয়ে আদর, সম্মান ও ভালোবাসার এক আয়োজন।
মায়ের ভূমিকা
উপদেষ্টা জয়শ্রী দাশ বলেন, ‘আজ সকালে পত্রিকার দুটি সংবাদ পড়েছিলাম—একটি হলো মা দিবসে সন্তান মাকে ফুল দিয়ে বরণ করছে, অন্যটি একজন মা তাঁর যমজ সন্তান নিয়ে মেডিকেলে ছুটে যাচ্ছেন হামের চিকিৎসার জন্য। হামের এই প্রভাবে কত মা যে সন্তানহারা হচ্ছেন, তার কোনো অন্ত নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মা হলো সব বিপদের শেষ আশ্রয়স্থল। সন্তানের পছন্দ–অপছন্দ একজন মা খুব ভালো জানেন ও মনে রাখতে পারেন।’
উপদেষ্টা তাহমিনা সানজিদা বলেন, ‘একটি সন্তান জন্মের পরে তাকে নিয়ে মা–বাবা নানা স্বপ্ন দেখেন। বিশেষ করে মায়েরা কিন্তু নানা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন কারণে বুঝতে পারে, শুরুর স্বপ্নগুলো সব সময় মিলে না। বিভিন্ন কারণে তা পরিবর্তন করতে হয় এবং সন্তানদের মা–বাবার সঙ্গে থাকা হয় না। তবে বছরের এই একটা দিন অন্তত সন্তানেরা যেন মায়েদের সঙ্গে সেরাভাবে উদযাপন করে।’
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী বলেন, ‘আমার এতটুকু জীবন গুছিয়ে নিতে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। সময়ানুবর্তিতা, সৎ পথে চলা, ভালো মানুষ হওয়া—এ বিষয়গুলো ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছ থেকে শেখা, যা ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগছে।’ শেষে কামরান তাঁর স্বরচিত ‘মা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন।
মায়ের স্মৃতি
কথামালার মধ্যে কিছুটা মন খারাপের পরিবেশ তৈরি হয় বইমেলা সম্পাদক সামিয়া সুলতানার মায়ের গল্প শুনে। ছোটবেলায় মাকে হারানো এই বন্ধু বলেন, ‘মায়ের প্রতিটি জিনিস আমার কাছে স্মৃতি, মায়ের শাসন, ভালোবাসা। এখন যখন নিজের দুই ভাই–বোনকে শাসন করি তাদের ভালোর জন্য, তখন বুঝি মায়ের শাসন ছিল আমার ভবিষ্যতের ভালোর জন্য। এখন মায়ের শাসন খুবই মিস করি।’
বন্ধু শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কলমের কালি ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু মাকে নিয়ে লেখা শেষ হবে না।’
আয়োজনে অংশগ্রহণ
আয়োজনের সমন্বয়কারী ছিলেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান ও প্রচার সম্পাদক সাকিব জিশান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও যুক্ত ছিলেন অর্থ সম্পাদক ফয়সাল হাওলাদার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক বহ্নিশিখা পর্ণা, বন্ধু গেহরিন নাসরিন, আশরাফুর রহমান, মামিয়া সুলতানাসহ অন্য বন্ধুরা।



