গর্ভাবস্থায় ফুসকুড়ির কারণ ও করণীয়: ডা. সাবরিনা মনসুরের পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় ফুসকুড়ি: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

গর্ভাবস্থায় ফুসকুড়ি কেন হয় ও করণীয়

গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। হরমোনজনিত এসব পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ত্বকেও। ফলে অনেক মায়ের ক্ষেত্রে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়।

গর্ভাবস্থায় ফুসকুড়ির কারণ

ত্বকে ফুসকুড়ি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কারও আগে থেকেই থাকা চর্মরোগ বাড়তে পারে, আবার গরমে ঘামাচি বা অ্যালার্জিজনিত কারণেও ফুসকুড়ি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার জটিলতা থেকেও এই সমস্যা দেখা দেয়। আবার এমনও হয়, শুধুমাত্র গর্ভধারণের কারণেই প্রথমবার ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

পলিমরফিক ইরাপশন

এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে দেখা যায় এবং প্রসবের কিছুদিন পর নিজে থেকেই সেরে যায়। ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগ হয়, যা অনেকটা অ্যালার্জির মতো দেখায় এবং তীব্র চুলকানি সৃষ্টি করে। সাধারণত পেট থেকে শুরু হয়ে উরু, নিতম্ব, কোমর ও স্তনে ছড়িয়ে পড়ে। ঝুঁকিতে থাকেন যারা প্রথমবার গর্ভবতী, অতিরিক্ত ওজন বেড়েছে বা যমজ সন্তান ধারণ করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেমফিগয়েড গেস্টেশনিস

এটি তুলনামূলক বিরল হলেও গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বেশি দেখা যায়, কখনো প্রসবের পরও হতে পারে। ফোসকার মতো ফুসকুড়ি হয়, যা সাধারণত নাভির চারপাশ থেকে শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তীব্র চুলকানি থাকে। এই রোগের সঙ্গে অকাল প্রসব বা শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে, তাই নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।

প্রুরাইগো

ছোট ছোট পোকার কামড়ের মতো ফুসকুড়ি হয় এবং চুলকানি থাকতে পারে। ধারণা করা হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে এটি হয়। গর্ভাবস্থার যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে এবং অনেক সময় প্রসবের পরও কিছুদিন স্থায়ী হয়।

প্রুরাইটিক ফলিকুলাইটিস

এটি বিরল একটি সমস্যা, সাধারণত গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে দেখা যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্রণের মতো লাল ফুসকুড়ি হয়—বিশেষ করে বুক, পিঠ, হাত ও পায়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাইরাসজনিত কারণ

গর্ভাবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও কিছু ভাইরাস সংক্রমণেও ফুসকুড়ি হতে পারে। যেমন—রুবেলা, মিজেলস, পারভোভাইরাস, ভেরিসেলা (চিকেনপক্স) ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

করণীয় ও চিকিৎসা

  • ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নিন
  • চুলকানো এড়িয়ে চলুন
  • সুতি, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
  • প্রয়োজন হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, ত্বকে ব্যবহারের জন্য স্টেরয়েড ক্রিম বা বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করুন

তবে গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধ নিজে থেকে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

ঘরোয়া যত্ন

  • সুগন্ধিবিহীন সাবান ব্যবহার করুন
  • ভেজা নরম কাপড় দিয়ে ত্বক ঠান্ডা রাখুন
  • আরামদায়ক ও পরিষ্কার পোশাক পরুন

প্রতিরোধ

গর্ভাবস্থাজনিত ফুসকুড়ি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা না গেলেও কিছু সতর্কতা মেনে চলা যায়—নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অসুস্থ ব্যক্তি ও ভিড় এড়িয়ে চলা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া। তবে জীবিত ভাইরাসযুক্ত কিছু টিকা (যেমন এমএমআর, চিকেনপক্স) গর্ভাবস্থায় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ—এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

  • ফুসকুড়ি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে
  • তীব্র চুলকানি বা ব্যথা হলে
  • জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে
  • ফোসকা বা পুঁজ তৈরি হলে

গর্ভাবস্থায় ত্বকের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।