গরমে কেউ চুলে তেল দিলে আরাম পান, আবার কেউ বলেন, মাথায় তেল মালিশ না করলে স্বস্তি পান না। তাই বছরজুড়েই তাঁদের নিয়ম করে মাথায় তেল মালিশ করা চাই। কেউ আবার বলেন, গরমের সময় মাথায় তেল মালিশ করলে গরম লাগে আরও বেশি। তাই গরমের সময় তেল এড়িয়ে চলেন তাঁরা। তেল মালিশের অভিজ্ঞতা এমন আলাদা হয় কেন, সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছিলাম।
কেন ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি?
গরম বা ঠান্ডার অনুভূতি ব্যক্তিভেদে কিছুটা আলাদা হয়ে থাকে। তা ছাড়া মাথায় তেল মালিশ করলে কতটা গরম লাগবে বা কতটা আরাম লাগবে, তা আরও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে গরমে অস্বস্তি লাগলেও যে সবারই মাথায় তেল মালিশ করতে হবে, তা কিন্তু না। এমনটাই জানালেন ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম। চলুন এই বিশেষজ্ঞের কাছ থেকেই জেনে নেওয়া যাক, মাথার ত্বকে তেল মালিশে স্বস্তি, অস্বস্তি এবং তেল মালিশের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত।
মাথার ত্বক এবং চুলের ধরন
যাঁদের মাথার ত্বক শুষ্ক এবং যাঁদের চুল একটু রুক্ষ বা খসখসে, তাঁরা মাথার ত্বকে এবং চুলে তেল মালিশ করলে উপকার পাবেন। প্রচণ্ড গরমে শুষ্কতাজনিত সমস্যাগুলো বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই মৌসুমে তেল মালিশ করলে আরাম পান তাঁরা। আর এই অভ্যাস তাঁদের চুলের জন্যও ভালো। অন্যদিকে যাঁদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের চুল সুস্থ রাখতে তেল দেওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। আর গরমের সময় তেল মালিশ করলে বেশ অস্বস্তি হতে পারে তাঁদের। মনে হতে পারে, তেল দেওয়ার পর বেশি গরম লাগছে।
তেলের ধরন
তেল মালিশ করতে চাইলে বুঝেশুনে তেল বেছে নিতে হবে। এমন তেল বেছে নিন, যা খুব বেশি ভারী ধরনের নয়। আঠালো বা চিটচিটেও নয়। বরং হালকা ধরনের তেল দিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করতে পারেন। নারকেল তেল, কাঠবাদাম তেল, জোজোবা তেল ব্যবহারে অস্বস্তির ঝুঁকি কম।
সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ
কড়া রোদের সময় তেল মালিশ করলে কিংবা লম্বা সময় মাথায় তেল থাকলে গরমের অনুভূতি হতে পারে। আবার যখন আপনার মাথার ত্বক ঘেমে আছে, তখন তেল মালিশ করলেও গরম লাগতে পারে। তার চেয়ে বরং গরমকালে তেল দিতে পারেন খুব সকালে, পড়ন্ত বিকেলে, সন্ধ্যায় বা রাতে। আধা ঘণ্টার মধ্যে শ্যাম্পু করে ফেললে স্বস্তি পাবেন। তেল ভালোভাবে ধুয়ে না ফেললে মাথার ত্বক চিটচিটে হয়ে পরে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
মালিশের রকমফের
মাথার ত্বকে তেল মালিশের সময় হাতের নখ দিয়ে চাপ দিলে কিংবা খুব দ্রুত মালিশ করলে অস্বস্তি হতে পারে। আরামদায়ক অনুভূতির জন্য মালিশের সময় হাতের আঙুলের সামনের দিককার নরম অংশ কাজে লাগান। মালিশ করুন ধীরে ধীরে। সুন্দরভাবে মালিশ করা হলে মাথার ত্বকের রক্তনালিগুলোর রক্তসঞ্চালন বাড়বে। অবসন্ন ভাব কেটে যাবে। সতেজ লাগবে।
তেল মালিশ করতে চাইলে অল্প পরিমাণে তেল ব্যবহার করুন। রোজ তেল মালিশ করার প্রয়োজন নেই। তেল মালিশে বেশি অস্বস্তি হলে রুক্ষতা দূর করার জন্য বিকল্প খুঁজতে পারেন। ভালো মানের কন্ডিশনার বা সিরাম ব্যবহার করলে রুক্ষ চুল কোমল থাকবে।



