হবিগঞ্জে নৃশংস শাশুড়ি হত্যা: পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় পুত্রবধূ গ্রেফতার
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসীর স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় শ্বাসরোধে নিজ শাশুড়িকে হত্যা ও সম্পদ চুরির অভিযোগে তামান্না আক্তার নামের এই নারীকে আটক করা হয়েছে।
লাশ উদ্ধার ও গ্রেফতার
নবীগঞ্জের মধ্যসমত এলাকার একটি বসতঘর থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর (৬৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তার পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে (২২) মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় র্যাব-৯ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হত্যার পেছনের গল্প
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যসমত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার এক ছেলে দুবাই প্রবাসী এবং দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রবাসী ছেলের স্ত্রী তামান্না আক্তারকে নিয়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলের বিয়ের সময় পুত্রবধূকে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ফেরদৌসী নিজের হেফাজতে রাখেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই পুত্রবধূ ও শাশুড়ির মধ্যে তর্কবিতর্ক হতো।
এরই মধ্যে টিকটক আইডির মাধ্যমে শিপন মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তামান্নার পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শিপন প্রায়ই তামান্নার বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। প্রেমের সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর তারা ফেরদৌসীর কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা চুরির পরিকল্পনা করে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত
১৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিপন মিয়া আরও কয়েকজনকে নিয়ে ফেরদৌসী ইসলামের বাড়িতে আসে। তামান্না তাদের ঘরের পিছনের দরজা খুলে দেয়। তারা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফেরদৌসীকে মুখ চেপে ধরে, কিন্তু তিনি ধস্তাধস্তি শুরু করলে তারা তার দুই হাত ও দুই পা কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। ফেরদৌসী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তারা স্কচ টেপ দিয়ে তার মুখ আটকে দেয় এবং গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর তারা ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
মামলা ও তদন্ত
পরবর্তীতে নিহতের ভাই ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে বোনের বাঁধা অবস্থায় লাশ দেখতে পান। তিনি বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তামান্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, "পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।" এই হত্যাকাণ্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া সম্পর্কের বিপদজনক দিকটি উন্মোচিত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
