ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ: খুলনা বন্ধুসভার অপেক্ষা ও অংশগ্রহণ
সময় কখনো থেমে থাকে না, কিন্তু কিছু অপেক্ষা সময়কে আরও গভীর অর্থে ভরিয়ে তোলে। ঠিক তেমনই এক দীর্ঘ ও আবেগময় অপেক্ষার নাম ছিল ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ। বন্ধুসভার সদস্য হিসেবে যখন প্রথম যুক্ত হই, তখন শুনেছিলাম ২০২০ সালের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় বন্ধু সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তখন বয়স কম থাকায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি। এরপর ২০২২ সালে ষষ্ঠ আসর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও বারবার শুনেছিলাম সমাবেশ হবে, কিন্তু প্রতিবারই তা পিছিয়েছে।
অবশেষে ঘোষণা ও প্রস্তুতি
অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্র মাঠে ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা এল। এই খবরে মনে এক অফুরন্ত আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল। আমরা খুলনা বন্ধুসভার বন্ধুরা সময়ের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে ফেললাম। কিন্তু হঠাৎ এক দুঃসংবাদে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলাম, দুর্বৃত্তরা প্রথম আলো বন্ধুসভার অফিসে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। মনে হলো এবারও হয়তো বন্ধু সমাবেশ আর হচ্ছে না, যা আমাদের মানসিকভাবে ব্যাপক কষ্ট দিল।
তবুও মনের গভীরে একটু আশার আলো জ্বলছিল যে এবার প্রোগ্রাম হবেই হবে। ২২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ঘোষণা চোখে পড়ল, যথাসময়ে ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। বন্ধু হাফিজুর রহমান ভাই বরাবরই বলছিলেন, আকস্মিক বিপর্যয়ের পরও ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ সমাবেশ করবে। এই আশ্বাসে আমরা আবারও প্রস্তুতি শুরু করলাম। সবাই মিলে আলোচনা করলাম কীভাবে যাওয়া যায়—ট্রেনে নাকি বাসে। দিন যত যাচ্ছিল, আনন্দ তত বাড়ছিল।
ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা ও দূর থেকে অংশগ্রহণ
দুর্ভাগ্যবশত, আমার পক্ষে সমাবেশে যাওয়া সম্ভব হলো না। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতে হলো। খুলনা থেকে আমাদের বন্ধুরা ২৫ ডিসেম্বর সকালে ট্রেনে করে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দিলেন। দুপুর নাগাদ তারা মৌচাক স্কাউট মাঠে পৌঁছে গেলেন। আমি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বন্ধুদের আনন্দে কিছুটা শামিল হওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাতে কি আর মনকে পুরোপুরি সান্ত্বনা দেওয়া যায়!
ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশে খুলনা বন্ধুসভার তাঁবু নম্বর ছিল ৩৭। লাইভের মাধ্যমে দেখেছি মূল মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, রাতে প্রোগ্রাম শেষে তাঁবুর সামনে ফায়ার ক্যাম্প, গান, কবিতা আর আড্ডার দৃশ্য। সব মিলিয়ে এটি ছিল এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা, যদিও সরাসরি উপভোগ করতে পারিনি।
ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
এখন অপেক্ষায় আছি সপ্তম জাতীয় বন্ধু সমাবেশের। এই আনন্দ সরাসরি উপভোগ করার তীব্র ইচ্ছা জাগছে। বন্ধুত্বের এই মহাযজ্ঞে অংশ নিয়ে জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো কাটাতে চাই। খুলনা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বলতে চাই, প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
এই সমাবেশ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি বন্ধুত্ব, সংহতি ও সহমর্মিতার এক জীবন্ত উদাহরণ। আগামী দিনগুলোতে আরও বড় আয়োজনের প্রত্যাশা রেখে, আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যাব বন্ধুত্বের পথে।
