একটি মুরগির ডিম ফোটানো ও বাচ্চাদের নামকরণের মজার অভিজ্ঞতা
মুরগির ডিম ফোটানো ও বাচ্চাদের নামকরণের গল্প

একটি মুরগির ডিম ফোটানো ও বাচ্চাদের নামকরণের মজার অভিজ্ঞতা

আমার খালামণি আমাকে দুটি মুরগি উপহার দিয়েছিলেন। ভাইয়া একটির নাম রাখলেন ‘কালু’ এবং অন্যটির নাম দিলেন ‘লালু’। বাড়িতে আনার মাত্র দু-তিন দিন পরেই লালু ডিম পাড়ল, যা আমাদের জন্য একটি বিস্ময়কর মুহূর্ত ছিল। ঠিক ২১ দিন পর সেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলো, একটি অদ্ভুত প্রক্রিয়া যা আমরা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি।

ডিম ফোটার অপেক্ষায় উত্তেজনাকর রাত

২০তম রাতে ডিমের ভেতর থেকে ‘কিচকিচ’ শব্দ আসছিল, যা আমাদের মনে প্রচুর কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল। পরের দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে আম্মু আমাদের ডেকে বললেন যে বাচ্চা ফুটেছে। আমি আর ভাইয়া দৌড়ে গিয়ে দেখলাম, ৩-৪টি বাচ্চা ইতিমধ্যেই ফুটে বেরিয়েছে। মোট ১৬টি ডিমের মধ্যে ১৫টি থেকেই বাচ্চা হয়েছিল, যা একটি অসাধারণ সাফল্য বলে মনে হলো। একটি ডিম আর ফোটেনি, যা আমাদের একটু হতাশ করেছিল।

বাচ্চা মুরগিদের মজার নামকরণ

আমি আর ভাইয়া মিলে বাচ্চাগুলোর জন্য মজার সব নাম বেছে নিলাম। আমরা নামগুলো রাখলাম—অরেঞ্জ জুস, কালু, সুপি, ইঙ্কিপিঙ্কি, পনি, কানা, ব্রাউনি, পাম্পকিন, পনি-টু, বনি, বনি-টু (এরা দেখতে হুবহু পনি আর বনির মতো ছিল) এবং কালুনজুস। ঘটনাটি এক বছর আগের বলে বাকি দুটির নাম এখন মনে নেই, যা একটু দুঃখজনক। একটি বাচ্চা নাম রাখার আগেই মারা গিয়েছিল, যা আমাদের জন্য একটি করুণ মুহূর্ত ছিল।

কালুনজুসের প্রথম ডিম পাড়ার স্মরণীয় দিন

মুরগিগুলোর মধ্যে কালুনজুস একদিন বড় হয়ে পাঁচ-ছয় মাস পর এক বুধবারে ঘরে এসে ঘোরাঘুরি শুরু করল। মনে হচ্ছিল ও কিছু একটা খুঁজছে, সম্ভবত একটি উপযুক্ত জায়গা। আম্মু তখন বাজারে ছিলেন, তাই আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ও এমনিই ঘুরছে, কিন্তু পরে বুঝলাম ও হয়তো ডিম পাড়বে। ওকে কোথায় বসাব বুঝতে না পেরে প্রথমে একটি বিস্কুটের বক্সে বসালাম, কিন্তু সেটি ওর জন্য ছোট হয়ে গেল। পরে ঘরের কোণ থেকে একটি বড় ঝুড়ি বের করে তাতে পুরোনো কাপড় বিছিয়ে ওকে বসিয়ে দিলাম। এর দুই ঘণ্টা পর কালুনজুস সত্যি সত্যি ডিম পাড়ল, যা দেখে আমরা সবাই খুব খুশি হলাম এবং এটি একটি অনবদ্য অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।

লেখক: শিক্ষার্থী, চতুর্থ শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা