শিশুদের জন্য আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন
শিশুদের জন্য আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর

শিশুদের জন্য আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ শিশুদের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

শিশু বিকাশে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পরই অনুধাবন করেছিলেন যে, আগামী প্রজন্মকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তৈরি করতে শিশুদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া অপরিহার্য। সে লক্ষ্যেই তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই জেলা পর্যায় পর্যন্ত শিশু একাডেমির পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে শিশু একাডেমি শিশুদের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের অধিকার আদায়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সজাগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিটি জেলায় এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত শিশুদের বিকাশের জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, "লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের মননশীলতা ও চিন্তার পরিধি বাড়ানো এবং তাদের আগামীর নেতৃত্ব প্রদানে পারদর্শী করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।"

নববর্ষের প্রাক্কালে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ আমাদের সঠিকভাবে চলার জন্য উজ্জীবিত করবে এবং আগামীর বৈশাখ অর্থাৎ ১৪৩৪ বঙ্গাব্দ আরও সুন্দর হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন। তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বৈশাখের প্রথম দিনে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করার মুহূর্তটি আমাদের জীবনে নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।

ইয়াসমীন পারভীন বলেন, "বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বাঙালিয়ানা ও সংস্কৃতির বীজ বপনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।" তিনি শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের জন্য সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। উপস্থিত ছিলেন:

  • মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সহধর্মিনী ডা. শরীফা করিম স্বর্ণা
  • মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ এর অধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ
  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকবৃন্দ
  • অভিভাবক এবং সাংবাদিকবৃন্দ

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একাডেমি চত্ত্বরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শিশুদের মাঝে সংস্কৃতি চর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উপস্থিতরা মনে করেন।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার শিশু উন্নয়নে তাদের অঙ্গীকারের পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ, শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।