শীত বিদায়ে লেপ-কম্বল সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শীত বিদায় নিচ্ছে, আর অনেকেই গা থেকে সোয়েটার সরিয়ে ফেলেছেন। রাতে ঘুমানোর সময় লেপ বা কম্বল গায়ে দিলেও এখন গরম লাগছে। তাই লেপ ও কম্বল তুলে রাখার সময় চলে এসেছে। কিন্তু সঠিক নিয়ম না মানলে আপনার প্রিয় শীতের সঙ্গীগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এখানে লেপ, কম্বল এবং নকশিকাঁথা সংরক্ষণের কিছু অপরিহার্য নিয়ম আলোচনা করা হলো।
শিমুল তুলার লেপের যত্ন
শিমুল তুলার লেপ কখনোই ধোয়া বা ড্রাইওয়াশ করা যায় না। তাই এই লেপ শুধুমাত্র রোদে শুকিয়েই ব্যবহার করতে হবে। আলমারিতে তুলে রাখার আগে একবেলা ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন। লেপের কভারটি আলাদাভাবে ধুয়ে নিতে পারেন, এতে লেপ পরিষ্কার থাকবে। এরপর লেপটি ভাঁজ করে শীতের কাপড় রাখার স্থানে রেখে দিন। পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে ন্যাপথলিন ব্যবহার করুন। এছাড়া ছোট পোটলায় নিমপাতা বা কালোজিরা রেখে দিলে লেপকে দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
কম্বল ধোয়া ও সংরক্ষণ পদ্ধতি
কম্বল সাধারণত ড্রাইওয়াশ করানো হয়, তবে ঘরেও ধোয়া সম্ভব। কম্বল ধোয়ার জন্য শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু দিয়ে কম্বলটি ১০ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর হালকা হাতে ঘষে নিন। পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিন। সংরক্ষণের সময় ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন বা নিমপাতা রাখুন, যাতে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।
নকশিকাঁথার সহজ যত্ন
গ্রাম-গঞ্জের প্রধান বস্ত্র নকশিকাঁথা সাধারণত পাতলা বা হালকা মোটা হয়ে থাকে, এবং এগুলো ধোয়া খুব সহজ। কাঁথা লন্ড্রি ওয়াশ বা হ্যান্ডওয়াশ করা যায়। হ্যান্ডওয়াশ করতে চাইলে প্রথমে ডিটারজেন্ট দিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর হাতে কেচে ধুয়ে ফেলুন। পোকামাকড়ের হাত থেকে দূরে রাখতে কাঁথার ভাঁজে ন্যাপথলিন, নিমপাতা বা কালোজিরা রাখতে পারেন।
অ্যালার্জি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা
লেপ ও কম্বল থেকে অনেকের অ্যালার্জি বা হাঁপানির সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে সবসময় এগুলো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। আলমারিতে তুলে রাখার আগে জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। আগামী শীতের শুরুতে ব্যবহারের আগে অবশ্যই রোদে দিতে ভুলবেন না, এতে জীবাণু ও আর্দ্রতা দূর হবে।
এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার লেপ, কম্বল ও নকশিকাঁথা দীর্ঘদিন সুস্থিত ও ব্যবহারযোগ্য থাকবে, এবং শীতকালে আবারও উষ্ণতা দিতে সক্ষম হবে।
