বাচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
হিজড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা বাচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন সোমবার তার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে সংগঠনের নিজ কার্যালয়ে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের বিবরণ ও অতিথিবৃন্দ
এই বিশেষ দিনে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের পক্ষ থেকে বাচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন। সংগঠনের সমন্বয়কারী আখতারুজ্জামানের সঞ্চালনায় এই আয়োজন পরিচালিত হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও পবা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম এবং যুবনেতা সুজন মোল্লা। বাচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তাফা সরকারের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অতিথিদের বক্তব্য
প্রধান অতিথি শেখ মকবুল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “হিজড়া ও সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়কে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সামাজিক সচেতনতা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ করে যাচ্ছে তা সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।”
কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাচার আশা কেবল সাংস্কৃতিক চর্চায় নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্যও কাজ করছে। মিডিয়া ও সমাজের সচেতন সদস্যদের এমন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
সংগঠনের ইতিহাস ও অর্জন
সংগঠনের সভাপতি মোস্তাফা সরকার জানান, ২০০৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫৫ জন সদস্য নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ২৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১২৭ জন হিজড়া সদস্য রয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে সংগঠনটি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, আর্থিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির বিকাশ ও টেকসই সংরক্ষণের জন্য নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ২৩ বছরে বাচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় ২২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে তাদের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রান্তিক সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক ও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তাদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
