বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, বায়ু মানের সূচকে ২৬৫ স্কোর
বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ২৬৫

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান

বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ২৬৫, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিভুক্ত। এই মাত্রার বায়ু দূষণ গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।

শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকা

সেনেগালের রাজধানী ডাকার প্রথম স্থান দখল করেছে একিউআই ৪৬৬ স্কোর নিয়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর (২২৩) এবং ভারতের কলকাতা (২২২)। এই তালিকা থেকে স্পষ্ট যে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে বায়ু দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের শ্রেণিবিভাগ

একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর ‘মধ্যম’ মানের বায়ু নির্দেশ করে, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সীমিত করা উচিত। ১০১–১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১–২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১–৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর উপরের স্কোর ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশে একিউআই পরিমাপের পদ্ধতি

বাংলাদেশে বায়ু মানের সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন। দৈনিক বায়ু মানের প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে একিউআই বাসিন্দাদের জানায় যে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে।

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে অবনতি ঘটে এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই দূষণ শহুরে জনগোষ্ঠীর জন্য ক্রমাগত স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। এই পরিসংখ্যান বায়ু দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিল্পায়ন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধুলা এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কার্যক্রম বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। ঢাকার মতো শহরগুলোতে এই সমস্যা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।