পূর্ব সুন্দরবনে অভিযান: ৪০০ কেজি পারশে মাছের পোনা জব্দ, ২৫ জেলে আটক
পূর্ব সুন্দরবনে একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে বনবিভাগ সফলতা অর্জন করেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ মাছ শিকারের ঘটনায় দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে এবং ২৫ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় প্রায় ৪০০ কেজি পারশে মাছের পোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যা বন ও জলজ সম্পদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পূর্ব সুন্দরবনের বলেশ্বর নদী ও কোকিল মোনি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফরেষ্টার দিলীপ মজুমদারের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা নিয়মিত টহলের সময় সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা একটি ট্রলার আটক করে। ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে তারা প্রথমে প্রায় ১৫০ কেজি পারশে মাছের পোনা জব্দ করেন। পরবর্তীতে আরও একটি ট্রলার আটক করে মোট ৪০০ কেজি পারশে মাছের পোনা উদ্ধার করা হয়।
আটক জেলেদের তালিকায় রয়েছেন ইমরান গাজী, গনি শেখ, সাহাবুদ্দিন শেখ, এনামুল শেখ, হাবিবুর শেখ, জুবায়ের মিস্ত্রী, সিরাজুল শেখ, আমিরুল শেখ, রহমান শেখ এবং মহাসিন মিস্ত্রি। এদের সকলের বাড়ি খুলনার দাকোপ ও পাইকগাছা এলাকায় অবস্থিত। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটকদের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।
বনবিভাগের প্রতিক্রিয়া ও আইনগত পদক্ষেপ
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের নদীতে অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা ধরা একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা আটক জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই ধরনের কার্যক্রম বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বনবিভাগের কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, সুন্দরবনে মাছের পোনা সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এটি জলজ জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পারশে মাছ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং এর পোনা সংগ্রহ বন্ধ করা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
এই অভিযানটি বনবিভাগের নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনুরূপ অবৈধ কার্যকলাপ হ্রাস করতে সাহায্য করবে এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
