সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হবে আজ শনিবার (১১ জুলাই)। দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এই গণনা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন।
দ্বিতীয় দফায় গণনা ও জমা
তিনি জানান, ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। গণনা শেষে দানের টাকাগুলো জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা, অর্থের ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনাকাঠামো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পূর্ববর্তী পদক্ষেপ
এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনকালে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
পরে গত ২২ জুন প্রায় সাতশ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়। সেদিন মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালী ব্যাংকের নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম সিলেট ছাড়ার আগে ওই হিসাবে আরও ৫ লাখ টাকা জমা দেন। এছাড়া নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পাউন্ড, রিয়াল, ডলার এবং স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।
বিতর্ক ও কমিটি গঠন
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এদিকে এই উদ্যোগকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করা হয়। এরই মধ্যে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী এ বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রুটিন কার্যক্রম বলে মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি, আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২৬ জুন ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির সদস্যবৃন্দ
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



