বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশে নতুন মূল্য নির্ধারণ
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, দেশে নতুন মূল্য নির্ধারণ

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশে নতুন মূল্য নির্ধারণ

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এই সমন্বিত দাম অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণ বিক্রি হবে।

স্বর্ণের নতুন দামের বিস্তারিত

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন নিম্নরূপ:

  • ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা
  • ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৮ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এই দাম সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে।

ভ্যাট ও মজুরি সংক্রান্ত নির্দেশনা

বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে, যা ক্রেতাদের বিবেচনায় রাখা উচিত।

রুপার দামের অবস্থা

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে রুপার দাম নিম্নরূপ:

  • ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা
  • ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৭ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

এই পরিবর্তনগুলি বিশ্ব বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজার চাহিদার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের ক্রয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।