বাল্যবিয়ে রোধে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি: সুরোঞ্জনা
বাল্যবিয়ে রোধে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বরেন্দ্র অঞ্চলে বাবুডাইং গ্রামে অবস্থিত প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রীমতি সুরোঞ্জনা রানী। তিনি বাল্যবিয়ে রোধে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।

বাল্যবিয়ের ভয়াবহ প্রভাব

সুরোঞ্জনা বলেন, ‘দারিদ্র্য ও অসচেতনতায় অনেক পরিবার কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করা হয়। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত, কুসংস্কার, শিক্ষার আলো ও আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় অনেক পরিবার কন্যাসন্তানকে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়। বাল্যবিয়ের ভয়াবহ প্রভাবের ফলে অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চল বাবুডাইং-সহ দেশের প্রায় সর্বত্রই গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে থাকে। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাবা-মা বা অভিভাবকদের সঙ্গে সভা বা উঠান বৈঠক করা, বাল্যবিয়ের শারীরিক, মানসিক ও আইনি কুফল সম্পর্কে সচেতন করা, শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্য-সচেতনতার আলোচনা, শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়া রোধ করা এবং কোথাও বাল্যবিয়ের আয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব

সুরোঞ্জনা মনে করেন, বাল্যবিয়ে মুক্ত সমাজগঠন কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। তিনি বলেন, ‘একটি মেয়ে শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হবে’ এই নীতিকে সামনে রেখে আমাদের সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে এবং বাল্যবিয়ে মুক্ত সমাজ গঠনে সচেষ্ট থাকতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুরোঞ্জনা নিজেও পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষিকাজ, নাচ ও আলপনা আঁকতে পারদর্শী। প্রথম আলো ট্রাস্টের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক নানামুখী কর্মকাণ্ড দেখে তিনি উজ্জীবিত। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন। তাই তিনি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহসিকতা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় নিজ গ্রাম হতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের পথ অতিক্রম করে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন।

সুরোঞ্জনার পরিবার ও স্বপ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ঝিলিম ইউনিয়নের বিল-বৈলঠা গ্রামের ক্ষুদ্র জাতি নৃ-গোষ্ঠীর কোল সম্প্রদায়ের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুরোঞ্জনা। তাঁর বাবার নাম শ্রী সুশীল কোল, মায়ের নাম শ্রীমতি আমিয়া রানী। বড় ভাই শ্রী কাজল কোল। তারা সকলেই অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সুরোঞ্জনা পড়ালেখা করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান।

তিনি বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক বা তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে আমি স্বপ্ন দেখি বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ গঠনের। প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’