জামায়াত আমিরের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাননি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিয়েছে। তবে, এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন দলটির আমিরের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
দলীয় নীতির কারণে মনোনয়ন বাদ
হামিদুর রহমান আযাদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, জামায়াতের একটি অন প্রিন্সিপাল নীতি অনুসারে, একই পরিবারে দুইজন সংসদ সদস্য রাখা হয় না। তিনি বলেন, ‘অতীতেও আমরা সেটা অ্যালাউ করি নাই। এবারও এটা করা হয় নাই। এটা আমাদের দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা করেছি।’ এই নীতির ফলে ডা. আমেনা বেগম, যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১ এর সদস্য ছিলেন, এবারের মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
নারী নেতৃত্বে জামায়াতের দাবি
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও উল্লেখ করেছেন যে, দলে যোগ্য নারী নেতৃত্বের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের নারী শাখায় অনেক যোগ্য ব্যক্তি আছেন যারা দেশের নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আমিরের স্ত্রী শুধু হেভিওয়েট নন, তাঁর চেয়ে জামায়াত ইসলামীর ডজন ডজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলটি তাদের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়নের প্রতি প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
আমেনা বেগমের রাজনৈতিক পটভূমি
ডা. আমেনা বেগম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তাঁর সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং দলীয় ভূমিকা নিয়ে এবারও আলোচনা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় নীতির কারণে তিনি মনোনয়ন পাননি। এই সিদ্ধান্তটি জামায়াতের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্য অন্যান্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিয়েছে, যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তটি জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।



