বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে অফিসের সহকর্মীদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি অফিস অবকাঠামো বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘কো-স্পেস’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের কর্মজীবনে অন্তত একবার সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তরুণ পেশাদারদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রেমের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হার প্রায় ৪৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ২১.৩ শতাংশ এই ধরনের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ (৩৯.৫%)। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা পরিচালক পর্যায়ে এই হার তুলনামূলক কম, মাত্র ১১.৬ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানের আকারের প্রভাব
যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা ১১ থেকে ৫০ জনের মধ্যে, সেখানে প্রেমের হার সবচেয়ে বেশি। ছোট দল এবং ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
অফিস বনাম রিমোট ওয়ার্ক
ডিজিটাল যুগে কাজের ধরন পাল্টালেও রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথাগত অফিসই এগিয়ে আছে। সশরীরে অফিসের মাধ্যমে ৭৩.৯ শতাংশ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে হাইব্রিড মডেলে ১৭.৪ শতাংশ এবং সম্পূর্ণ রিমোট বা দূরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে মাত্র ৮.৭ শতাংশ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
কর্মীদের মনোভাব
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮০.৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা সহকর্মীদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক লক্ষ্য করেছেন। ৪৯.১ শতাংশ মনে করেন এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। তবে আশঙ্কার কথা হলো, ৪৩.৪ শতাংশ কর্মীই জানেন না যে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক নিয়ে কোনো লিখিত নীতিমালা আছে কিনা।
বিশেষজ্ঞের মতামত
কো-স্পেস-এর সিইও উইলিয়াম স্টোকস এই বিষয়ে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ একসঙ্গে কাজ করার ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠা অনেকটা অনিবার্য। নিয়োগকর্তাদের উচিত সম্পর্কগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি তৈরি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা সম্পর্কে কর্মীদের স্পষ্ট ধারণা না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার বা দলের মনোবল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সুস্থ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে উন্মুক্ত যোগাযোগ এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা জরুরি।
সূত্র: ওয়ার্কপ্লেস জার্নাল



