বিশ্বকাপ দেখার খাবার: দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আয়োজন
বিশ্বকাপ দেখার খাবার: দেশভেদে ভিন্ন স্বাদ

বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের লড়াই নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। মাঠে খেলোয়াড়রা যখন গোলের জন্য লড়াই করেন, তখন টেলিভিশনের সামনে বসে কোটি কোটি দর্শক নিজেদের প্রিয় খাবার নিয়ে উপভোগ করেন ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত। মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপ দেখার খাবারও দেশভেদে বদলে যায়। কোথাও বারবিকিউ, কোথাও টাকো, কোথাও আবার ফিশ অ্যান্ড চিপস ছাড়া খেলার আমেজই জমে না।

বিশ্বকাপের খাবারের বৈচিত্র্য

বিশ্বকাপের সময় ফুটবলপ্রেমীদের পাতে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দেখা যায়। যেমন আর্জেন্টিনায় অ্যাসাদো, ব্রাজিলে চুরাস্কো, মেক্সিকোতে টাকো, ইংল্যান্ডে ফিশ অ্যান্ড চিপস, জাপানে সুশি, ইতালিতে পিৎজা ও পাস্তা, জার্মানিতে ব্রাটভুর্স্ট ও বিয়ার, স্পেনে পায়েলা, ফ্রান্সে ব্যাগুয়েট ও পনির, নাইজেরিয়ায় জোলফ রাইস, ঘানায় ফুফু, দক্ষিণ কোরিয়ায় কিমচি ও বারবিকিউ, অস্ট্রেলিয়ায় মিট পাই, যুক্তরাষ্ট্রে হট ডগ ও বার্গার, নেদারল্যান্ডসে প্যানকেক ও স্ট্রুপওয়াফেল, পর্তুগালে পাস্তেল দে নাটা, বেলজিয়ামে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও মৌলস, এবং সুইজারল্যান্ডে ফন্ডু।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ও খাবার

দক্ষিণ আমেরিকায় ফুটবল মানেই যেন মাংসের উৎসব। আর্জেন্টিনায় অ্যাসাদো, ব্রাজিলে চুরাস্কো—এই গ্রিল করা মাংস বিশ্বকাপ দেখার সময় অপরিহার্য। মেক্সিকোর টাকো, নাচোস ও গুয়াকামোল তো আছেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউরোপের খাবারের তালিকা

ইউরোপের দেশগুলোতে বিশ্বকাপ দেখার সময় স্থানীয় খাবারের প্রাধান্য দেখা যায়। ইংল্যান্ডে ফিশ অ্যান্ড চিপস, ইতালিতে পিৎজা ও পাস্তা, জার্মানিতে ব্রাটভুর্স্ট ও বিয়ার, স্পেনে পায়েলা, ফ্রান্সে ব্যাগুয়েট ও পনির, নেদারল্যান্ডসে প্যানকেক ও স্ট্রুপওয়াফেল, পর্তুগালে পাস্তেল দে নাটা, বেলজিয়ামে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও মৌলস, এবং সুইজারল্যান্ডে ফন্ডু জনপ্রিয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এশিয়া ও আফ্রিকার স্বাদ

এশিয়ায় জাপানে সুশি ও রামেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কিমচি ও বারবিকিউ। আফ্রিকায় নাইজেরিয়ায় জোলফ রাইস, ঘানায় ফুফু ও গারি, সেনেগালে থিয়েবু দিয়েন, মরক্কোতে ট্যাজিন ও কুসকুস, ক্যামেরুনে এনডোল ও ফুফু, আইভরি কোস্টে অ্যাটিক ও গ্রিলড ফিশ, মিশরে কুশারি, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিল্টং ও বোবোটি, ইথিওপিয়ায় ইঞ্জেরা ও ওয়াট, এবং তানজানিয়ায় উগালি ও নায়ামা চোমা।

উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়ার খাবার

যুক্তরাষ্ট্রে হট ডগ ও বার্গার, কানাডায় পাউটিন, অস্ট্রেলিয়ায় মিট পাই, নিউজিল্যান্ডে হ্যাঙ্গি ও পাই, ফিজিতে লোভো, পাপুয়া নিউ গিনিতে মুমু, সামোয়ায় পালুসামি ও ওকা, টোঙ্গায় লু পুলু, কুক দ্বীপপুঞ্জে ইকা মাতা, এবং হাওয়াইতে পোক বাটিতে উপভোগ করা হয়।

বিশ্বকাপের সময় ফুটবল আর খাবারের এই মেলবন্ধন সত্যিই অনন্য। দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর স্বাদের প্রতিফলন ঘটে প্রিয় দলের ম্যাচ দেখার সময়। তাই পরবর্তী বিশ্বকাপে নিজের দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করে ম্যাচ উপভোগ করতে ভুলবেন না।