পটুয়াখালীর বাউফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় বাসের এক স্টাফ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল-ঢাকা মহাসড়কের বাউফল উপজেলার আফসার গ্যারেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দশমিনা উপজেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘বাউফল ট্রাভেলস’ নামের একটি বাস আফসার গ্যারেজ এলাকায় পৌঁছালে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
হতাহতের তথ্য
এতে ঘটনাস্থলেই বাসের এক স্টাফ নিহত হন। দুর্ঘটনায় তার কোমরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। বাসটিতে ২৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে আরও ১০ জন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় এক বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান স্বপন বলেন, আমাদের লাইনে যে বাসগুলো চলে এর নিচের অংশের বক্সে অনেক বেশি মালামাল পরিবহন করে। যার ফলে বেশি ওজনের কারণে ড্রাইভারের পক্ষে ব্যালেন্স রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। আমার মনে হয় গাড়িতে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা কয়েকজন যাত্রীর কাছে শুনছি, বাসটি চালানোর সময় ড্রাইভার ফোনে কথা বলছিলেন। গতিও বেশি ছিল। এসব মিলিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।
পুলিশের বক্তব্য
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, গাড়িটিতে ২০-২৫ জনের মতো যাত্রী ছিল। তবে নিহত একজন ছাড়াও আরও একজন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এখনো তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহের সুরতহাল শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



